
ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য (মেম্বার) হেলালের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, উন্নয়ন কাজে অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত কাজের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ইট, বালু ও অন্যান্য সামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহার না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু উন্নয়ন কাজ কাগজে-কলমে দেখানো হলেও বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এছাড়া, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা (চাল) বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত উপকারভোগীদের বাদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি ও ঘুষের মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা নিয়মিত খাদ্য সহায়তা পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা। একাধিক অভিযোগে জানা যায়, এক ব্যক্তি আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরলে ইউপি সদস্য হেলাল তাকে মারধরের হুমকি দেন। আরও কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই হুমকি দেওয়া হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ঘটনা জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ঘাটতির প্রতিফলন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হেলালের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়ে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।