
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভার প্রেসক্লাবের বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত বল্টু হাফিজ উদ্দিন সরকার। পীর বাবার অনুসারী হাফিজ উদ্দিন উনি আরেক পীর।
হাফিজের বংশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারবেন যে, উনারা আসলেই পীর। এই হাফিজ উদ্দিন মানবজমিন পত্রিকার সাভার প্রতিনিধি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
শুনলে অবাক হবেন যে, বল্টু হাফিজ প্রাইমারী পাশ করা তো দূরের কথা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তিই হয়নি। তাহলে কিভাবে সে সাংবাদিক হলো.?
সাভার প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রণকারী কয়েকজনের মধ্যে বল্টু হাফিজ একজন। যত চিকন বুদ্ধি, গুটি বাজী, কাকে নির্বাচনে পাশ করাবে, কাকে ফেল করাবে এসব গুটির জন্য বল্টু হাফিজ বিখ্যাত। কালা সরকারের অনুসারীরা সব সময় নির্বাচন গেম খেলে থাকেন এটা সবাই জানেন।
আজ সাভার প্রেসক্লাব অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার পেছনে এদের ভূমিকা অন্যতম। বলে রাখি, সারা বছর ডেকেও এদের পাবেন না। বিপদে আপদে ফোন করলেও সাড়া মিলবে না। কিন্তু, নির্বাচন এলেই এরা সাংবাদিক প্রেমিক সাধু সেজে যায়। তখন সবাইকে সালাম দেয়। নির্বাচনে পাশ করলেই পীর বাবা ও বল্টু হাফিজেরা হাওয়ায় উড়ে বেড়ায়। এদের গ্রুপে যতজনকে দেখবেন তাদের কারো কোন পত্রিকা নেই। নামে সাংবাদিক। কামে চাঁদাবাজ।
এরা এত খারাপ যে, নিজের স্বার্থে নিজের পরিবারের সাথে বেইমানী করতে পারে। যেমন, সাংবাদিক নাজমুল হুদা হলো বল্টু হাফিজের ভাতিজী জামাই। এই বল্টু হাফিজ পীর বাবা প্যানেলে সব সময় নির্বাচন করে। পীর বাবার স্বার্থে সাংবাদিক নাজমুল হুদাকে ফেল করিয়েছে এই বল্টু হাফিজ। প্রকাশ্যে বলে বেড়িয়েছে " নাজমুল আমার বা*লে*র জামাই। শালায় খাড়াইয়া মুতছে। ওরে ইলেকশনে ফেল করাও।" যে কথা সেই কাজ। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নাজমুল একবার নয়, বারবার সাভার প্রেসক্লাবের নির্বাচনে ফেল করেছে। এবারও নিশ্চিত সাধারণ সম্পাদক পদে দাঁড়ালে সে নির্বাচিত হতেন বলে অনেকেই বলাবলি করছে। বল্টু হাফিজ তাকে কৌশলে সভাপতি পদে দাঁড় করিয়েছে। তবে নাজমুলের উচিত হবে বল্টু হাফিজ উদ্দিনকে বাদ দিয়েই ভোটারদের কাছে যাওয়া।
একবার কি ভেবেছেন, ঢাকার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর সাভার। সাভার প্রেসক্লাবের দিকে সারা দেশ তাঁকিয়ে থাকে। অথচ, পীর বাবা- হাফিজ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে জন্মলগ্ন থেকেই সাভার প্রেসক্লাব অবহেলিত। এর একটি মাত্র কারণ পীর বাবা-হাফিজ পরিষদ।
সিনিয়র সাংবাদিকরা অবাক হয়ে বলেন, একজন অশিক্ষিত লোক বল্টু হাফিজ উদ্দিন সরকার কিভাবে মানবজমিনের সাংবাদিক হলো। আর শুরু থেকে সব সময় সাভার প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হয়ে আসছেন।
এবার আসেন আসল ঘটনায়, হাফিজ ছিলেন সাভার বাসস্ট্যান্ডের একটি হোটেলের মেছিয়ার, পরবর্তীতে ফার্মেসির কর্মচারী। নাপা-প্যারাসিটামল বিক্রি করে অতি কষ্টে তার সংসার চলতো। তিনি তার ভাই-বোনদের ঠকিয়ে বাস্ট্যান্ডের সম্পত্তি হাতিয়ে নেন। এসব অবৈধ সম্পত্তি রক্ষা করতে কালা সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠতা করেন। কালা সরকার ভূয়া সার্টিফিকেট তৈরী করে তখন বল্টু হাফিজকে সাংবাদিক বানিয়ে দেন। তখন এই দুইজন মিলে সাভার স্ট্যান্ডের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে থাকে।
আর বল্টু হাফিজ সাংবাদিক হয়ে নিজের-- পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি টিকিয়ে রাখেন।
সাভার প্রেসক্লাবকে অথর্ব করে রাখার পেছনে পীর বাবা ও হাফিজ গংদের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। ক্ষমতা ধরে রাখতে দমন নীতি সব সময়ই চলেছে। সাভারে এত ভাল ভাল সাংবাদিকরা থাকলেও তাদের কখনও প্রেসক্লাবের সদস্য করা হয়নি। মুষ্টিমেয় পীর বাবা ও বল্টু হাফিজের অনুসারীদের প্রেসক্লাব সব সরকারের আমলেই চাঁদাবাজি ও ধান্দায় ছিল প্রথম।
হাফিজের মত আরো অশিক্ষিত সাংবাদিক প্রেসক্লাবের আসন দখল করে আছে। যা খুব লজ্জাজনক। আর এই প্রেসক্লাবের ভেতরেই ৪/৫ টি গ্রুপ। সদস্য সংখ্যা মাত্র ৪০/৪২ জন। এসবের পরিবর্তন এনে বল্টু হাফিজদের প্রত্যাখ্যান করে স্বচ্ছ মানুষদের দায়িত্ব দিয়ে সাভার প্রেসক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে মানবজমিন কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, অশিক্ষিত বল্টু হাফিজ উদ্দিন নিয়ে ১৮ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ দেখলেন ১ম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব দেখতে চোখ রাখুন আমাদের মিডিয়ায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।