
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি || শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া থানার সামনে বাইপাইল এলাকায় হিমালয় আবাসিকে গেস্ট হাউজের আড়ালে চলছে এ রমরমা দেহব্যবসা। যেখানে খদ্দেরদের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে পাশাপাশি থাকে মাদকের সুব্যবস্থা। এসব সুব্যবস্থা খদ্দেরদের কান পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি গেস্ট হাউসের জন্য থাকে বেশ কয়েকজন করে দালাল। যারা প্রকাশ্যে চালায় প্রচারণা, যুবসমাজকে দেখায় নানান প্রলোভন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধ দেহ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে একটি চক্র, যা স্থানীয় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছে বলে অনেকে মনে করছেন।
হিমালয় গেস্ট হাউজের দালালরা বলেন, এখানে রুম পাওয়া যাবে মাত্র ১৩০০ টাকায়। যে কাউকে নিয়ে থাকা যাবে নির্ভয়ে। আর তারা যদি রাত্রিকালীন অসামাজিক কাজের সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে এক রাতের জন্য দিতে হবে ৪০০০ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব গেস্ট হাউজে দিন-রাত রক্ষিত নারী ও অজ্ঞাতপরিচয় নারী-পুরুষের যাতায়াত, অস্বাভাবিক আচরণ ও গোপনে অর্থের বিনিময়ে দেহব্যবসার ঘটনা চালাচ্ছে।
এদিকে একই মালিকের পরিচালনায় পদ্মা গেস্ট হাউজেও চলছে অসামাজিক ব্যবসা। হোটেলগুলোর খুব কাছাকাছি আশুলিয়া থানা থাকলেও দুটি হোটেলের মধ্যেই চলছে অসামাজিক ব্যবসা। যদিও আশুলিয়া থানা পুলিশ ইতিপুর্বে পদ্মা গেস্ট হাউসে অভিযান পরিচালনা করলেও থেমে নেই অনৈতিক কর্মকান্ড, তবে হিমালয় গেস্ট হাউসে এখনো কোনো অভিযান করা হয়নি।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ মে) রাত আনুমানি ১১টার দিকে হিমালয় গেস্ট হাউজে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার জন্য চেস্ট করেন গেস্ট হাউজের ম্যানেজার কাজল।
অনেকেই অভিযোগ করেন, থানার সামনে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের অভিযানগুলো কেবল দৃষ্টি আকর্ষণ’ করার জন্য, কারণ এসব গেস্ট হাউজ দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহজনক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নিরব ভূমিকায় প্রশাসন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্বচ্ছ তদন্ত ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ। তারা চান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক এবং গেস্ট হাউজগুলোর লাইসেন্স যাচাই করে বেআইনি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হোক।
আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় গেস্ট হাউজের নামে পতিতাবৃত্তির মতো জঘন্য কর্মকাণ্ড রোধে প্রশাসন কতটা আন্তরিক, তা এখন দেখার বিষয়। অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা দেখানোই কাম্য, নতুবা সাধারণ মানুষের আস্থা আরও ক্ষুণ্ণ হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।