প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৮:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৪:৪৫ পি.এম
সাভার-আশুলিয়ায় লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকটে পোশাক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক ||শিল্পকারখানা অধ্যুষিত সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং এবং জ্বালানি তেলের সংকটে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ কারখানায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। একইসঙ্গে পণ্য পরিবহন ও সময়মতো শিপমেন্টে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে রপ্তানিমুখী এই খাতে।
সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বৃহৎ পোশাক কারখানা একেএইচ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল কাশেম জানান, জ্বালানি তেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১০ শতাংশ উৎপাদন কমছে।
তিনি বলেন, “পোশাক কিছুটা কম তৈরি হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। জ্বালানি সংকটে সকালে পণ্যবোঝাই কাভার্ড ভ্যান বিকালে ছাড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় পথে তেল শেষ হয়ে যানবাহন আটকে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, শিপমেন্ট বিলম্বিত হওয়ায় বিদেশি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিচ্ছে, যা শিল্পখাতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাভার পৌর এলাকার আল মুসলিম গ্রুপ ও জেকে গ্রুপের কারখানাগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকায় নিজস্ব গ্যাসচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
জেকে গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মাহবুব আলম বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন এক লাখের বেশি পিস পণ্য উৎপাদন হতো, এখন তা কমে ৮০ থেকে ৯০ হাজার পিসে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, “শুধু উৎপাদন নয়, জ্বালানি সংকটের কারণে চট্টগ্রামে পণ্য পাঠাতেও ভোগান্তি হচ্ছে। অনেক সময় কাভার্ড ভ্যান পথে আটকে পড়ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে ডিপোতে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক মালিককে নিজ খরচে বিমানযোগে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে, এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।”
কর্ণপাড়ায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্টিচেস লিমিটেড কারখানায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদন চালানো হচ্ছে।
কারখানাটির প্রধান উৎপাদন পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, “এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার পিস পণ্য উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা কমে ১০ হাজার পিসে নেমে এসেছে।”
এদিকে, ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আকতার উজ্জামান লস্কর বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্প সচল রাখতে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি। অন্যথায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।