প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৩, ২০২৬, ১:৫৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২, ২০২৬, ৮:৫১ পি.এম
ধামরাইয়ে প্রবেশপত্র আটকে রাখায় এসএসসির তিন পরীক্ষা দিতে পারেনি এক পরীক্ষার্থী

সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও প্রবেশপত্র আটকে রাখায় এসএসসি পরীক্ষার বাংলা ও ইংরেজীসহ তিনটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন রায়হান নামে এক পরীক্ষার্থী। এতে এই ছাত্রের শিক্ষাজীবনের বড় এক ক্ষতি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।
এমন ঘটনা ঘটেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রায়হান হোসেনের সঙ্গে। এঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম।
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সকল পাওনাদি পরিশোধ করা সত্ত্বেও রহস্যজনক কোন কারণে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের প্রবেশ পত্র আটকে রাখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা গ্রামের গোলাম হোসেন ও নাজমা বেগমের সন্তান মো. রায়হান। পড়েন কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে। কৃষক গোলাম হোসেন বহু কষ্টে জমা দিয়েছিলো ফরম ফিলাপের টাকা। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশ পত্র হাতে না পাওয়ায় সহপাঠীদের সাথে বসার কথা থাকলেও রায়হান সঠিক সময়ে বসতে পারেনি পরীক্ষার কক্ষে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে যখন সব বন্ধুরা প্রবেশ পত্র নিচ্ছিলো তখন সেও যায় স্কুলে। কিন্তু সেখান থেকে তাকে জানিয়ে দেয়া হয় তার প্রবেশপত্র আসেনি। দুইটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার বন্ধু জানায় তার আসনটি প্রতিদিন ফাকা থাকে, তাহলে তাকে কেন দেয়া হলো না প্রবেশ পত্র? পরে সে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারে তার প্রবেশ পত্র বিদ্যালয়ে আছে তাকে দেয়া হয়নি প্রবেশপত্র। এরমধ্যেই তিনটি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত এই পরীক্ষার্থী।
রায়হানের বন্ধু পারভেজ জানায়, ১ম পরীক্ষা দিতে গিয়ে দেখে তার সামনের আসনটি ফাকা। তার সন্দেহ হয় কিন্তু নিজের পরীক্ষার চাপে সেদিন খোজ নিতে পারেনি। পরের পরীক্ষায় সে খোজ নিয়ে জানতে পারে ওই আসনটি রায়হানের। সে তার বন্ধুকে জানায় বিষয়টি।
রায়হানের মা নাজমা জানান, শুধুই কি প্রবেশপত্র আটকে রেখে থেমেছেন তারা। পরে যখন প্রবেশ পত্র নিয়ে চতুর্থ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাবে ঠিক সে সকালেই স্কুলের অফিস সহকারী আমজাদ তার বাসায় ডেকে নেয় রায়হানকে। রায়হান ও তার বন্ধু যায় সেখানে। তার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রবেশপত্র নিতে চায় আমজাদ নামের ওই অফিস সহকারী। ঘটনার এক সময়ে মারধর করেন রায়হানকে। যেহেতু প্রবেশ পত্র এসেছিলো তাকে কেন পরীক্ষা দিতে দেয়া হলো না?
রায়হানের বাবা বলেন, আমি গরীব মানুষ আমার ছেলে যাতে সব পরীক্ষা দিতে পারে সেই সুযোগ দেয়া হোক।
স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা জানায় ২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পরে প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন দুর্নীতির কারনে তার পদ হারায়। তার গাফিলতি এই ছাত্রের দুরাবস্থার কারন বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে গেলে দেখা যায় তার কক্ষে ঝুলছে তালা। একাধিকবার ফোন দেয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
একই চিত্র দেখা যায় অফিস সহকারী আলী আমজাদের বেলায়। সে অফিসে নেই তার ফোন বন্ধ। কেন আসেননি তা কেউ বলতে পারেন না।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রায়হানের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন প্রধান শিক্ষক ও আলী আমজাদ। অন্য শিক্ষকেরা পড়াশুনার দায়িত্ব পালন করেন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, ছাত্রের মায়ের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
একটি বছরের অপেক্ষা, আর জীবনের প্রথম বড় একটি লক্ষ্য, সবই এখন অনিশ্চিত। রায়হানের এই ক্ষতির দায়ভার কে নেবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর মনে। সবার দাবি, তিনটি পরীক্ষা যেন বিশেষ উপায়ে হলেও দিতে পারে রায়হান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।