
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় এক নারীকে কেন্দ্র করে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে দুই বিয়ে ও দুই তালাকের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সংসার জীবনের অবসান, পরবর্তী বিয়ে, অল্প সময়ের মধ্যেই তালাক এবং পরে পুনরায় বিয়ের দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন স্থানীয়ভাবে “টক অব দ্য টাউন”-এ পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজাবাড়ী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা বেগম (৪০) প্রায় ২৩ বছর আগে একই এলাকার ওসমান গনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে সন্তান-সন্ততিসহ একটি প্রতিষ্ঠিত পরিবার রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে নাছিমা বেগমের সঙ্গে উপজেলার নাজিরপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্কের জেরে চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে তিনি প্রথম স্বামীকে তালাক দেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে গত ২ মে নাছিমা বেগম ও সোহেল মিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের পরপরই তাদের মধ্যে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিয়ের মাত্র ৯ দিনের মাথায় সোহেল মিয়া স্ত্রীকে তালাক দেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার নতুন মোড় আসে কয়েক সপ্তাহ পর। সোহেল মিয়ার দাবি, ব্যক্তিগত কাজে রাজাবাড়ী এলাকায় গেলে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং তার সম্মতি ছাড়া পুনরায় বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের হলফনামার মাধ্যমে ৫ লাখ ৫ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে দ্বিতীয়বারের মতো কাবিন সম্পন্ন করা হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে আইনজীবী ও সচেতন মহলের অভিমত, ঘটনাটি শুধু পারিবারিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইন, তালাকের বিধান, ইদ্দতকাল পালন এবং বিয়ে নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও জড়িত। বিশেষ করে প্রথম তালাকের পর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা ও প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে নাছিমা বেগম সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের মতে, একের পর এক বিয়ে ও দ্রুত তালাকের এই ঘটনা সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং আইনি সচেতনতার বিষয়গুলোকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
মির্জাপুরজুড়ে আলোচিত এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলেও তাদের প্রত্যাশা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।