বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর-শরিকল খাল পুনঃখননকে কেন্দ্র করে চন্দ্রহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র ওয়াশব্লকসহ ৬টি পাকা টয়লেট অপসারণের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, খালের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশত অবৈধ স্থাপনা অক্ষত রাখতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাটাজোর-শরিকল খালের ১০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে পৃথক দুটি কমিটি।
স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খালের উত্তর পাড়ে অবস্থিত চন্দ্রহার বাজার এলাকায় খালের জায়গা দখল করে নির্মিত প্রায় ৫০টি স্থাপনা উচ্ছেদ না করে খালের দক্ষিণ পাড়ে অবস্থিত বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলো অপসারণের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. রহিম জানান, ২৪৫ শিক্ষার্থী ও ৮ শিক্ষকের ব্যবহারের জন্য নির্মিত ওয়াশব্লকসহ ৬টি পাকা টয়লেটের পানির সংযোগ গত ১৬ জুন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই টয়লেটগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে টয়লেটগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।
টয়লেট রক্ষার দাবিতে গত ১৮ জুন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন প্রধান শিক্ষক।
এদিকে খাল পুনঃখননের অজুহাতে চন্দ্রহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়র ১৬টি বড় রেনট্রি ও মেহগনি গাছ টেন্ডার ছাড়াই কম মূল্যে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪ লাখ টাকার গাছ মাত্র দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং বাকিগুলো কাটার কাজ চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া খাল পুনঃখনন চলাকালে রাতের আঁধারে বাটাজোর-শরিকল সড়কের পাশ থেকে তিন শতাধিক রেনট্রি ও মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানরা। তাদের দাবি, সরকারি নকশা (ডিজাইন) অনুযায়ী খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং খালের সীমানার মধ্যে থাকা যেকোনো স্থাপনা বা গাছ অপসারণ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম বলেন, “বিদ্যালয়ের টয়লেটগুলো খালের জায়গার মধ্যে পড়েছে। ডিজাইন অনুযায়ী খননকাজ করতে হলে সেগুলো সরাতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে নতুন টয়লেট নির্মাণ করে দেওয়া হবে। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২-১টি টয়লেট সংরক্ষণের সুযোগ আছে কি না, তা দেখা হবে।
এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, খালের ভেতরে থাকা অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখে কেন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরুরি অবকাঠামো অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।