
সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : বিষমুক্ত ও আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলেছেন কৃষক আবুল কালাম। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ শুরু করে বর্তমানে তিনি ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। তাঁর এ সফলতা এলাকায় অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করছে।
শুধু নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নই নয়, আবুল কালামের খামারে প্রতিদিন বেশ কয়েকজন শ্রমিক কাজ করেন। তারা দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি পান। ফলে তাঁর খামার স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।
ধামরাই উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের চরসুঙ্গর এলাকায় মালচিং পদ্ধতিতে আধুনিক ও বিষমুক্ত সবজি চাষ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার, জৈব সার প্রয়োগ এবং সঠিক সময়ে সেচ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি অধিক ফলন পাচ্ছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, মালচিং পদ্ধতির কারণে জমিতে আগাছা কম জন্মায়, রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও অনেকাংশে হ্রাস পায়। এতে উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
আবুল কালাম জানান, আগে তিনি একই আকারের দুটি জমিতে করলার চাষ করেছিলেন। একটি জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, অন্যটিতে নয়। মালচিং ছাড়া জমি থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকার করলা বিক্রি হলেও মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করা জমি থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সার এবং সরিষার খৈল ব্যবহার করছেন। এতে সবজির গুণগত মান ভালো থাকে, দেখতে আকর্ষণীয় হয় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। চলতি মৌসুমে তিনি ১২ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উৎসাহিত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই জমিতে বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদনের কৌশল শেখানো হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া আবুল কালামের খামারে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে ধূমপান নিষিদ্ধ, জমিতে খাবার গ্রহণ না করা, নির্ধারিত পোশাক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।
কৃষক আবুল কালাম বলেন,কৃষি অফিসের পরামর্শে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করে আজ আমি সফল হয়েছি। প্রথমে ২০ শতাংশ জমিতে চাষ শুরু করেছিলাম। এখন ১২ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছি। এই চাষাবাদ থেকেই পরিবারের ব্যয়, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ বহন করছি এবং স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছি।
ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে আগাছা দমন সহজ হয়, বৃষ্টির পানিতে গাছের ক্ষতি কম হয় এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে অনেক কৃষক এ পদ্ধতি গ্রহণ করছেন। আগামী বছর আরও বেশি কৃষককে মালচিং প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।