
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার আশুলিয়া থানায় কাতারের একটি সুপারশপে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক যুবক।
অভিযোগকারী মো. সৈকত হোসেন (২০) লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।
লিখিত অভিযোগে সৈকত হোসেন উল্লেখ করেন, তার পরিচিত ব্যক্তি রানা তাকে মোশারফ হোসেন ও মাসুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারা কাতারের একটি সুপারশপে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভিসাসহ বিদেশ পাঠানোর জন্য মোট ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ ও ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে ওই টাকা গ্রহণ করেন। এসব লেনদেনের প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা গ্রহণের পর অভিযুক্তরা তাকে কাতারের ভিসা ও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিলেও বারবার বিমানের টিকিট দেওয়ার তারিখ পরিবর্তন করতে থাকে। একপর্যায়ে একটি টিকিট দিলেও অনলাইনে যাচাই করে সেটি ভুয়া বলে জানতে পারেন। বিষয়টি জানানো হলে অভিযুক্তরা ভুল স্বীকার করে নতুন টিকিটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে তাকে কাতারে পাঠানো হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুপারশপে চাকরি না দিয়ে একটি আর্মি ক্যাম্পের বাগানে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানালে প্রথমে কিছুদিন অপেক্ষা করার পর কাঙ্ক্ষিত চাকরি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সৈকত হোসেন অভিযোগ করেন, চাকরি পরিবর্তনের দাবি ও দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাবের ভয় দেখায়। এমনকি কাতারে অবস্থানকালে স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে পরিবারের সহযোগিতায় নিজ খরচে দেশে ফিরে গত ২০ জুলাই অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি নিশ্চিত হন যে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পরিকল্পিতভাবে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের বিষয়ে দ্বিতীয় অভিযুক্ত রানা বলেন, "আমি সৈকতকে শুধু বিদেশে পাঠানোর জন্য কথা বলে দিয়েছিলাম। তাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া এ বিষয়ে আমি আর কিছু জানি না।"
অপর দুই অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ও মাসুদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।