দীর্ঘদিনের বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার ইরানের সঙ্গে হঠাৎ সব ধরনের বাণিজ্য স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিন্তু কেন এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে—হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মেলানো। ঠিক একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তেহরানের ওপর নতুন করে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
আমিরাত মূলত ইরানের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতে, ২০২৪ সালে ইরানের মোট আমদানির প্রায় ৩১ শতাংশ (প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার) এসেছে আমিরাত থেকে। এছাড়া ইরানের রপ্তানির তৃতীয় বৃহত্তম গন্তব্যও দেশটি।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক কারেন ইয়াংয়ের মতে, সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি কার্যকর হলে এটা ইরানের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। তবে এতে আমিরাতকেও কিছুটা লোকসান গুনতে হবে।
অবশ্য বৈধ বাণিজ্য বন্ধ হলেও কালো টাকার প্রবাহ পুরোপুরি থামানো কঠিন। বিশেষজ্ঞরা জানান, চীন ও হংকংয়ের বিভিন্ন নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে আমিরাতের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরান বিপুল পরিমাণ তেলের টাকা লেনদেন করে। তাই সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ হলেও ছায়াপথে এই অর্থপ্রবাহ চলতে পারে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই আমিরাত ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান নেয়। দুবাইয়ের গবেষক মোহাম্মদ বাহারুনের মতে, শুধু মার্কিন চাপে নয়, নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাগরে জাহাজে হামলা চালিয়ে ইরান স্বাভাবিক বাণিজ্যের আশা করতে পারে না।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।