
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টারঃ নরসিংদীর পলাশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন । প্রতিমা তৈরী শিল্পীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন । কয়েক দিন পরেই প্রতিমার গায়ে পড়বে রঙের আঁচড়। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পলাশে মন্ডপের সংখ্যা কমেছে।

উপজেলার পৌর এলাকার পলাশ বাজার মন্দিরে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায়ের কাজ। এই মন্দিরের ভেতরে এখন শোভা পাচ্ছে প্রতিমার বড় কাঠাম। বাঁশ-কাঠ আর কাঁদা মাটি দিয়ে তৈরি প্রতিমাগুলো দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সনাতন ধর্মের লোকজন। প্রতিমাগুলো রঙের আঁচড়ে, পরিচ্ছদ ও অলঙ্কারে সজ্জিত হয়ে অপরূপ হয়ে উঠবে।এদিকে সনাতন ধর্মের লোকজন পুজার নতুন পোষাক কেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ।পলাশ উপজেলায় এবছর ৪১টি পুজা মন্ডপে দুৃর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে।
জিনারদী, গজারিয়া,ডাংগা, চরসিন্দুর ও ঘোড়াশাল পৌরসভার বিভিন্ন গ্রামের মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বড় প্রতিমার দুর্গা উৎসব হয় রাবান, কুড়াইতলী, বরাবো, বালিয়া, পলাশ বাজার ও ডাঙ্গা মন্দিরে। পূজা মন্ডব সংখ্যা কমেছে, সেই সাথে এ বছর পুজার খরচ কমছে।
ঘোড়াশালের কুমারবাড়ির প্রতিমাশিল্পী জয় কিশোর পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত ছন, খড়, বাঁশ, কাঠ ও মাটিসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ ক্রেতারা আগের দামেই প্রতিমা তৈরি করে নিতে চাচ্ছেন। প্রতিমা শিল্পী আরও জানান, গত বছরের তুলনায় এবার দুর্গা প্রতিমার অর্ডারও কম। আমি ৪ সেট প্রতিমা তৈরী করছি। তবে নতুন কোন প্রতিমা তৈরীর কাজ এখন পর্যন্ত পাইনি।
২১ সেপ্টেম্বর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা নিয়ে আসবে। ২৭ সেপ্টেম্বর মহাপঞ্চমী দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হবে । ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে। এবার দেবীর আগমন গজে ও বিদায় হবে দোলায় চড়ে।
পলাশ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অসিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চন্দ্র দত্ত বলেন, ‘এবার ধর্ম মন্ত্রণালয় ও পুজা উদযাপনের কেন্দ্রীয় কমিটি প্রদত্ত নীতিমালা ও সরকারি নীতিমালা যথাযথ পালন করেই দুর্গাপূজা করা হবে।প্রতিটি মন্ডপেই সি সি ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে। প্রতিবারের মতো জাতি ধর্ম বর্ণ সবাই মিলেমিশে ও সবার সহযোগিতায় পূজা উদযাপন করা হবে। এজন্য পলাশ পূজা উদযাপন কমিটি সবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।
পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিকী গনমাধ্যম জানান , এ বছর দূর্গাপুজায় আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।সরকারি বিধিমোতাবেক শান্তিপূর্ণভাবে ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গা পুজায় নিরাপত্তা ব্যবস্হা আমরা নিব।
পলাশ থানার ওসি মনির হোসেন জানান , গত বছরগুলোর মতো এ বছরও পলাশে সব দুর্গা মন্দিরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন পুজা মন্ডপে ফোর্স পাঠিয়ে টহল ব্যবস্থা করেছি।