সরদার মনিরুজ্জামান নিজস্ব প্রতিবেদক
টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে সড়কের গর্ত সংস্কারে পাথর ও বিটুমিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ইটের খোয়া ও বালু। কোথাও কোথাও গর্ত ভরাটের পাশাপাশি করা হচ্ছে ইটের সলিং। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে এসব সংস্কারকাজ করা হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থী, টরকী, গৌরনদী, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল ও সানুহারসহ ব্যস্ত এলাকাগুলোতে সড়কের অবস্থা তুলনামূলক বেশি নাজুক।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকরা ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে তা বালুর সঙ্গে মিশিয়ে সড়কের গর্ত ভরাট করছেন। কোথাও আবার শুধু ইটের টুকরো ফেলে গর্ত বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে ইটের সলিংও করা হয়েছে। তবে এসব তাৎক্ষণিক সংস্কারকাজে পাথর বা বিটুমিনের ব্যবহার চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির পানিতে ইটের খোয়া দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইটের খোয়া গুঁড়ো হয়ে ধুলা সৃষ্টি করছে। আবার বৃষ্টির পানিতে ইট সরে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার করা স্থানে নতুন করে গর্ত তৈরি হচ্ছে। এতে সড়ক সংস্কারে অর্থ ব্যয় হলেও স্থায়ী সুফল মিলছে না বলে দাবি তাদের।
মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার চালকেরা জানান, সড়কের কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু হয়ে আছে। এসব স্থানে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালাতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরাও।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও উঁচু-নিচু অবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ব্যবহার না করে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন মূল সড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত ইটের গুঁড়ো দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক সংস্কারকাজ। বৃষ্টি কমে গেলে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করে দায়সারা সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত টেকসই সংস্কার করা প্রয়োজন। এতে মহাসড়কে যান চলাচল নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি কমবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।