
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি : সাভার উপজেলার ধামসোনা ও ইয়ারপুর ইউনিয়নের শিল্পকারখানায় ট্যাক্স বা কর নির্ধারণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন কর নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা নস্কর আলী ওরফে লস্কর।
সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, শিল্পকারখানার আয়তন নির্ধারণ ও আর্থিক সক্ষমতার রিপোর্ট তৈরিতে কারসাজির মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর কমানোর নামে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়।
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন নস্কর আলী। তার দাবি, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য ডকুমেন্টস বা সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
নস্কর আলী বলেন, “কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে আমার বিরুদ্ধে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই সংবাদের কোনো ডকুমেন্টস নেই।”
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত কোনো আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও অস্বীকার করে নস্কর আলী বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কোনো ধরনের লেনদেন আমি করি না। এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমি টাকা গ্রহণ করি না।”
নস্কর আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চাহিদা অনুযায়ী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আয়তন বা অ্যাসেসমেন্টের কাজ করেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে কর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ নির্ধারিত কর আদায় করে।
তিনি বলেন, তার কাজ মূলত অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করা। কর আদায়ের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই তার বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ বা কর কমিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অ্যাসেসমেন্ট কীভাবে হয়
ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন বাড়ি-ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানের আয়তন, ব্যবহার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য বিবেচনা করে কর নির্ধারণের প্রস্তাব তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী কর আদায় করে।
এদিকে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে নস্কর আলী বলেন, তার দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়াটি যাচাই করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের নথিপত্র ও অ্যাসেসমেন্টের কাগজপত্র যাচাই করা যেতে পারে। এতে প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, তা প্রকাশ করা হোক। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করে একজন ব্যক্তির সম্মানহানি করা উচিত নয়।”
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজন হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এতে অভিযোগের সত্যতা থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্টদের হয়রানি থেকে মুক্ত রাখার সুযোগ থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।