বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের মধ্য পিংগুলাকাঠী গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সরকারি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০টি পরিবারের মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলচিড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য পিংগুলাকাঠী গ্রামের ওই রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রায় ৪০টি পরিবারের মানুষ চলাচলের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মো. সুমন সরদার রাস্তার অংশে কাঠের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বুধবারের পরিবর্তে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রতিদিন বিকল্প ও তুলনামূলক দূরের পথ ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম, পিতা মোহাব্বত মৃধা সহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই পথ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে আসছেন। হঠাৎ করে পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেখানো একটি প্রকল্পের সাইনবোর্ডে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় পিংগুলাকাঠী হামেদ কমান্ডার বাড়ি হতে সিরাজ সরদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটের সলিং করার জন্য ৫ লাখ ৫১ হাজার ১৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের বাস্তবায়নে এবং সাইনবোর্ডে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে মোছা. রেহানা বেগমের নাম উল্লেখ রয়েছে।
তবে রাস্তা বন্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মো. সুমন সরদার। তিনি বলেন, “আমি চার শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। ওই জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা করলে মো. সিরাজুল ইসলাম বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সিরাজুল ইসলাম আমাদের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ এবং আদালতে মামলা করেছেন।”
সুমন সরদারের দাবি, তিনি তাঁর ক্রয় করা সম্পত্তিতেই ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। জমি নিয়ে বিরোধের কারণেই বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হেলাল উদ্দিন সরদার বলেন, “জমিজমা নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু এর কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে সবাই দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বসে দ্রুত বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের পথটিও স্বাভাবিক রাখা জরুরি। রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০টি পরিবারের দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের আইনগত সমাধানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।