
রিপোর্ট : মোঃ মাসুদ সরদার
গ্রামের প্রতিটি শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস হাওলাদার। তাঁর উদ্যোগে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কমালাপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি লাইব্রেরি। ‘একটি গ্রাম, একটি লাইব্রেরি’—এই ভাবনা থেকে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি এখন স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার নতুন ঠিকানা হয়ে উঠছে। প্রতিদিন সেখানে বই নিয়ে বসছে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী। কারও হাতে পাঠ্যবই, কারও সামনে সহায়ক বই; কেউ পড়ছে, কেউ আবার বুঝতে না পারা বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করছে শিক্ষকের সহায়তায়।
গ্রামবাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে এ উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, একটি লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে কমালাপুরের শিশু-কিশোরদের মধ্যে নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে, বাড়বে শিক্ষার মান এবং কমবে ঝরে পড়ার ঝুঁকি। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের অন্যান্য গ্রামেও একই ধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে।
কেন ‘একটি গ্রাম, একটি লাইব্রেরি’
শিক্ষা একটি জাতির অগ্রগতি ও উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী এখনো পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, সহায়ক বই এবং যথাযথ দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পাঠ্যক্রমের বাইরে জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা কিংবা পাঠ্যবইয়ের জটিল বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার সুযোগ সবার সমান নয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইড ও সহায়ক বই কেনা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এর পাশাপাশি পারিবারিক বিরোধ, মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিস্তার, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত আসক্তি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষাসহায়তার অভাব শিশু-কিশোরদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দারিদ্র্যের কারণে বাল্যবিবাহের প্রবণতা এবং কর্মসংস্থানের আশায় অল্প বয়সে বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কোনো কোনো পরিবারে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত করে।
এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের পাশাপাশি একটি নিরিবিলি, সুশৃঙ্খল ও বইসমৃদ্ধ পাঠপরিবেশ তৈরি করা জরুরি। একটি লাইব্রেরি কেবল বই পড়ার স্থান নয়; এটি হতে পারে জ্ঞান অর্জন, চিন্তার বিকাশ, সৃজনশীলতা চর্চা এবং নৈতিক মূল্যবোধ গঠনের কেন্দ্র।
এই উপলব্ধি থেকেই ‘একটি গ্রাম, একটি লাইব্রেরি’ উদ্যোগের সূচনা। এর মূল লক্ষ্য—গ্রামের শিশু-কিশোরদের বইয়ের কাছে নিয়ে আসা, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং শিক্ষার সুযোগকে আরও সহজলভ্য করা।
নিজ গ্রাম থেকেই উদ্যোগের সূচনা
এই উদ্যোগের উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস হাওলাদার। পেশাগত জীবনে তিনি পেট্রোবাংলার গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) ডেপুটি ম্যানেজার এবং জিটিসিএল অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম পেশাজীবী সংগঠন এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ এলাকার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবেন তিনি। তাঁর উপলব্ধি, একটি আলোকিত সমাজ গঠনের জন্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জ্ঞানচর্চার পরিবেশ, বই পড়ার অভ্যাস এবং শিক্ষার প্রতি দীর্ঘমেয়াদি আগ্রহ তৈরি করা।
সেই ভাবনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি নিজের গ্রাম গৌরনদী উপজেলার কমালাপুরে একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। গত ২৬ মে ২০২৬ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) জহির উদ্দিন স্বপন অনলাইনে লাইব্রেরিটির উদ্বোধন করেন।
নিজ গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উদ্যোক্তা দেখাতে চেয়েছেন, ব্যক্তিগত সদিচ্ছা, সামাজিক সহযোগিতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ একত্র হলে গ্রাম পর্যায়েও শিক্ষার জন্য কার্যকর পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।
তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
কমালাপুরের লাইব্রেরিটি মূলত তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রয়োজনীয় বই পড়তে পারে, সে জন্য লাইব্রেরিতে একাধিক সেট একাডেমিক বই ও সহায়ক গাইড বই রাখা হয়েছে।
বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারের পক্ষে সব বিষয়ের সহায়ক বই কেনা সম্ভব হয় না। লাইব্রেরিতে এসব বই ব্যবহারের সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই প্রয়োজনীয় পড়াশোনার উপকরণ পাচ্ছে।
লাইব্রেরিটি সপ্তাহে ছয় দিন খোলা থাকে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে পড়াশোনা করতে পারে। বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠ শেষে সন্ধ্যার এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের পড়া তৈরি, অনুশীলন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একজন শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি লাইব্রেরির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ব্যবস্থাপনা ও দেখভালের জন্য রয়েছেন একজন অফিস সহায়ক। ফলে এটি শুধু বই সংরক্ষণের জায়গা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন ও সহায়তা পাওয়ার উপযোগী একটি পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
প্রতিদিন আসছে ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থী
লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী লাইব্রেরিতে এসে পড়াশোনা করছে। বই পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ এবং লাইব্রেরিতে এসে সময় কাটানোর প্রবণতা উদ্যোগটির সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়িতে সব সময় নিরিবিলি পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ থাকে না। কারও বাড়িতে জায়গার সংকট, কারও ক্ষেত্রে পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশের অভাব, আবার কারও প্রয়োজনীয় বইয়ের ঘাটতি রয়েছে। এমন শিক্ষার্থীদের জন্য লাইব্রেরিটি একটি বিকল্প অধ্যয়নকেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
এখানে শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে পড়াশোনা করতে পারছে। সহপাঠীদের সঙ্গে পড়ার পরিবেশ তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও নিয়মিত অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে। প্রয়োজন হলে শিক্ষকের কাছ থেকেও পড়াশোনার বিষয়ে সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একটি গ্রামে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন নিয়মিত পাঠপরিবেশ তৈরি হওয়াকে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার উন্নয়নের ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠাভ্যাসের ধারাবাহিকতা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং লাইব্রেরির কার্যক্রম টেকসইভাবে পরিচালনার ওপর।
ঝরে পড়া রোধ ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ার প্রত্যাশা
গ্রামাঞ্চলে শিক্ষার উন্নয়ন বলতে শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি বা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বোঝায় না। শিক্ষার্থীরা কতটা নিয়মিত পড়াশোনা করছে, তাদের চিন্তাশক্তি কতটা বিকশিত হচ্ছে এবং তারা পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞান অর্জনের কতটা সুযোগ পাচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
কমালাপুরের এই লাইব্রেরিকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, এখানে নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হবে। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা প্রয়োজনীয় সহায়ক বই ব্যবহারের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস তাদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমিয়ে গঠনমূলক কাজে আগ্রহী করে তুলতে পারে।
উদ্যোক্তা ও স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের আশা, লাইব্রেরিটি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা এবং নিয়মিত শিক্ষাসহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের জন্য বই পড়ার প্রতিযোগিতা, সাধারণ জ্ঞানচর্চা, গল্পপাঠ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা গেলে লাইব্রেরির কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে।
সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে লাইব্রেরি
একটি লাইব্রেরির প্রভাব শুধু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ভাষাজ্ঞান, কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটতে পারে। তারা সমাজ, দেশ, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।
বিশেষ করে কৈশোরে গঠনমূলক পরিবেশ ও সঠিক দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি লাইব্রেরি তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
কমালাপুরে প্রতিষ্ঠিত লাইব্রেরিটি সেই সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। এর মাধ্যমে গ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার একটি নির্দিষ্ট স্থান তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা নিয়মিত সময় দিতে পারছে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তা এলাকায় শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা
লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠার পেছনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা রয়েছে। উদ্যোক্তা কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস হাওলাদারের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছেন শিক্ষানুরাগী মো. মজিবর রহমান ফকির, মো. ইমরান হোসেন বারেক সরদার, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. মোকলেস মিয়া, মো. এমদাদ শিকদার, মো. মাইনুল ইসলাম মানু, মো. হায়দার তালুকদার, মো. লিটন হাওলাদার, মো. রেজাউল শিকদার, মো. শামীম হাওলাদার, মো. সাইদুল হাওলাদার, মো. সজল হাওলাদার ও মো. আবু কামাল ফকির।
তাঁরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় উদ্যোগটি বাস্তব রূপ পেয়েছে। এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উদ্যোক্তা।
একটি সামাজিক উদ্যোগের সাফল্যে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কমালাপুরের এই লাইব্রেরি তার একটি উদাহরণ। কোনো উদ্যোগ একজনের চিন্তা থেকে শুরু হলেও সম্মিলিত সহযোগিতা সেটিকে দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকর করে তুলতে পারে।
প্রতিটি গ্রামে একটি লাইব্রেরি—সময়ের দাবি
‘একটি গ্রাম, একটি লাইব্রেরি’ উদ্যোগের পরিধি কমালাপুরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের অন্যান্য গ্রামেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে উদ্যোক্তার। তাঁর ভাবনা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে দেশের বিভিন্ন গ্রামে এ ধরনের লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
এ জন্য স্থানীয় বিদ্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয়, বই সংগ্রহ, পাঠক নিবন্ধন, নির্দিষ্ট সময়সূচি, নিয়মিত তদারকি এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী পাঠ্যবই, গল্পের বই, বিজ্ঞানবিষয়ক বই, সাধারণ জ্ঞানের বই এবং মূল্যবোধভিত্তিক সাহিত্য সংগ্রহ করা হলে লাইব্রেরিগুলো আরও সমৃদ্ধ হবে।
স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ, জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী এবং সামাজিক সংগঠনগুলো এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতা করলে গ্রামীণ শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি লাইব্রেরির কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত উপকার নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জ্ঞানভিত্তিক ও আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন
একটি বই কখনো কখনো একটি শিশুর চিন্তার জগৎ বদলে দিতে পারে। একটি পাঠাগার তৈরি করতে পারে শত শিশুর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ। সেই বিশ্বাস থেকেই কমালাপুরে লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস হাওলাদার।
প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এই উদ্যোগের সম্ভাবনার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন প্রয়োজন এ আগ্রহকে দীর্ঘস্থায়ী করা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং লাইব্রেরির কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করা।
গ্রামের প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ, প্রশাসন ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত প্রচেষ্টা। ‘একটি গ্রাম, একটি লাইব্রেরি’ সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি সম্ভাবনাময় ধারণা।
কমালাপুরের এই উদ্যোগ যদি অন্য গ্রামেও অনুপ্রেরণা জোগায়, তাহলে বই পড়ার অভ্যাস বিস্তারের পাশাপাশি গ্রামীণ শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি হতে পারে। আর সেই পথ ধরেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও আলোকিত বাংলাদেশ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।