বরিশালের গৌরনদীতে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার গৌরনদী উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ মাসুদ সরদারকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যে সংবাদ তিনি নিজে লেখেননি বা প্রকাশ করেননি, সেই সংবাদের দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে নিজের নামে প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বিএনপি নেতার পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রকাশের প্রস্তাব ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন এই সাংবাদিক।
সাংবাদিক মোঃ মাসুদ সরদারের অভিযোগ, দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তাঁকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদন দুটি তাঁর লেখা বা প্রকাশিত না হলেও তাঁকে দিয়ে নিজের নামে সংবাদগুলোকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে বক্তব্য প্রকাশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্যও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সম্প্রতি দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদে ‘গৌরনদীতে নারীকে নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে রফায় রাজনৈতিক মদদস্থতার অভিযোগের বিতর্কে বিএনপি নেতা’ এবং ‘গৌরনদীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে সম্পর্ক ও ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পক্ষে বিএনপি নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন দুটিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলা, পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ এবং অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ নেতার পক্ষে এক বিএনপি নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করা হয়।
তবে সাংবাদিক মাসুদ সরদার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ওই প্রতিবেদন দুটি তাঁর লেখা কিংবা প্রকাশিত নয়। এরপরও প্রতিবেদনগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁকে জড়িয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
নিজের নামে সংবাদ মিথ্যা বলানোর চেষ্টা?
সাংবাদিক মাসুদ সরদারের প্রশ্ন, যে সংবাদ তিনি প্রকাশই করেননি, সেই সংবাদের দায়ভার তাঁর ওপর চাপিয়ে কেন তাঁকে দিয়ে নিজের নামে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে? কোনো ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক নেতার ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব কি একজন সাংবাদিকের, নাকি তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই তাঁর পেশাগত দায়িত্ব?
তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে নিজের বক্তব্য বা তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পরিবর্তে তাঁকে দিয়ে সংবাদগুলোকে মিথ্যা বলানোর চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে ওই নেতার পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং একাধিকবার ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, কোনো সংবাদে কারও নাম বা ভূমিকা নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তথ্য-প্রমাণসহ নিজের বক্তব্য দিতে পারেন। সংবাদমাধ্যমে প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা পাঠানোর সুযোগও রয়েছে। কিন্তু যে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের সম্পৃক্ততা নেই, সেই সংবাদকে কেন্দ্র করে তাঁকে চাপের মুখে ফেলা এবং নিজের নামে নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশের চেষ্টা পেশাগত স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।
বক্তব্য নিতে যোগাযোগ, পাওয়া যায়নি সাড়া
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতার বক্তব্য জানার জন্য পত্রিকায় ব্যবহৃত অফিসের ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতার অবস্থান, সাংবাদিকের অভিযোগ এবং ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের চাপ দেওয়ার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রয়েছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল কিংবা গোষ্ঠীর ভাবমূর্তি রক্ষার হাতিয়ার নয়। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়াই একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব।
কোনো সংবাদে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে তা খণ্ডন করা যেতে পারে। কিন্তু একজন সাংবাদিককে দিয়ে নিজের পছন্দমতো বক্তব্য প্রকাশ করানো কিংবা কোনো ব্যক্তির পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগ স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
সাংবাদিক মোঃ মাসুদ সরদার বলেন, তিনি চ্যানেল এস টেলিভিশন ও জাতীয় দৈনিক আগামীর সময় পত্রিকার গৌরনদী উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। যে সংবাদ তাঁর লেখা বা প্রকাশিত নয়, সেই সংবাদের দায়ভার তিনি নিতে পারেন না। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কারও পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া তাঁর কাজ নয়। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করাই তাঁর দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য, প্রতিবাদ কিংবা ব্যাখ্যা প্রকাশে তাঁর আপত্তি নেই। তবে নিজের নামে মিথ্যা বক্তব্য প্রকাশ করা কিংবা কারও পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য চাপ প্রয়োগ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনাটি ঘিরে সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, সংবাদ প্রকাশের দায়ভার এবং সাংবাদিকের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি উঠেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।