
উৎপল রক্ষিত, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের নবমীবিহীত পূজার মধ্য দিয়ে কাত্যায়নী পূজার সমাপ্তি হলো। কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মনিদাশ পাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তিমাধুর্য ও ঐতিহ্যের আবহে কাত্যায়নী পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। শনিবার মহানবমী তিথিতে উৎসবমুখর পরিবেশে পাঁচ দিনব্যাপী পূজার সকল আচার-অনুষ্ঠান শেষ হলো।

মনিদাশ পাড়ার পূর্বপাড়া ও দক্ষিণপাড়ায় প্রতিবছরের মতো এবারও দুটি পৃথক পূজা মণ্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হয় । ভোর থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসার ঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধসহ নানা বয়সের ভক্তদের পদচারণায় সরগরম ছিলো পরিবেশ। সাজসজ্জায় ঐতিহ্যবাহী রঙ, আলোকসজ্জা ও ফুলের সমাহার, দু’টি পূজা মণ্ডপে নয়নাভিরামতা দূশ্য গেছে।
আয়োজক কমিটির সদস্য সুবল মনিদাস ও বিষ্ণু মনিদাস জানান, আমরা প্রতি বছরের মতো এবারও কাত্যায়নী পূজা করে দুষ্টের দমন ও সৃষ্টির পালন ও শুভ শক্তির জয়গানকে ধারণ করেছি। এলাকার মানুষ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমাদের পূজায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সকলের সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহানবমীর দিন সকালে চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি ও আহুতি দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুরে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতর, সন্ধ্যায় আরতি, মঙ্গলগীতি ও আলো-সজ্জার ঝলকানিতে মণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখুর। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি পূজার প্রাণচাঞ্চল্য আরও বৃদ্ধি করেছে।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় কাত্যায়নী দেবী হলেন মা দুর্গার ষষ্ঠ রূপ, যিনি শক্তি, সাহস ও সৎ শক্তির প্রতীক। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, কাত্যায়নী ব্রত বিশেষ করে বিবাহযোগ্য নারীদের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করেন ।
দেবীর উদ্দেশ্যে উপবাস, পূজা ও প্রার্থনা করলে সকল বাধা-বিঘ্ন দূর হয়। সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায় এবং অশুভ শক্তি নাশ হয় বলে বিশ্বাস করে। কাত্যায়নী দেবীকে ‘অশুরনাশিনী’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে, যিনি দুষ্ট শক্তি দমন করে শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা করেন। ভক্তরা বিশ্বাস করে কাত্যায়নী পূজায় অংশগ্রহণ করলে পরিবারে শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল নেমে আসে। পূজা বিশেষ গুরুত্ব পায় গ্রামীণ সমাজে এবং প্রতিবছর নতুন উদ্যমে অনুষ্ঠিত হয়।
এলাকাবাসী জানান, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে ও বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মাধ্যমে কাত্যায়নী পূজা উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণদের অংশগ্রহণ ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান পূজাকে এলাকায় অন্যতম জনপ্রিয় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত করেছে। ধর্মীয় পুণ্যলাভ, সামাজিক সৌহার্দ্য ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে মনিদাশ পাড়ার কাত্যায়নী পূজা এলাকায় অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।