প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৩, ২০২৬, ৯:৩৮ পি.এম
গাজীপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে মন্দিরে সরস্বতী পূজা উদযাপন

উৎপল রক্ষিত, গাজীপুর প্রতিনিধিঃ গাজীপুরে বিদ্যা, জ্ঞান ও সৃষ্টিশীলতার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় শুক্রবার সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়েছে। সকাল থেকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে , পাড়া মহল্লার, মন্দিরে মন্দিরে ও বাড়িতে বাড়িতে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন জ্ঞান, বিদ্যা, বুদ্ধি, সংগীত, শিল্প ও সাহিত্য ও বাক শক্তির আরাধনার জন্য সরস্বতী পূজা করে থাকেন। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস মতে, মা সরস্বতী মানুষের মধ্যে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে দেন, অজ্ঞতা ও অন্ধকার দূর করেন।
অনেক পরিবারে শিশুদের হাতেখড়ি সরস্বতী পূজার দিন দেয়া হয়। সরস্বতী পূজার দিন শিশুদের লেখা পড়ার শুভ সূচনা করেন। মায়ের কোল থেকে শিক্ষার প্রথম পাঠ শুরু করার আয়োজন সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধকে দৃঢ় করে। সরস্বতী পূজা মানুষকে কেবল বিদ্যায় নয়, নৈতিকতা ও মানবিকতায়ও সমৃদ্ধ করতে শেখায়।
রঘুনাথপুর সঃপ্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূরোহিত পন্ডিত দীনেশ চক্রবর্তী জানান, সরস্বতী পূজা আমার কাছে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এ পূজা জ্ঞানচর্চার প্রতীক। সনাতন ধর্মের মানুষ মনে করেন সরস্বতী পূজা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মনে শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করে।
দেবী মা সরস্বতীর আরাধনায় শিক্ষার্থী, শিল্পী ও জ্ঞানপিপাসুদের কাছে সরস্বতী পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। মাঘ মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সরস্বতী দেবী জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী হিসেবে পরিচিত। দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীনা।
গাজীপুর ভাওয়াল মডেলের প্রতিষ্টাতা পরিচালক দুলাল সরকার জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, জ্ঞানই মানুষের শক্তি। সরস্বতী পূজা করলে পড়াশোনার প্রতি মনযোগ তৈরি হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী পূজার দিনে জ্ঞান, শিক্ষা, কলা, সংগীতের প্রতীক মনে করে। সরস্বতী পূজার দিন হিন্দু শিক্ষার্থীরা বিশেষ ভাবে মায়ের আর্শীবাদ কামনা করে। সরস্বতী পূজা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকৃতির নতুন পাতা, ফুলের রঙ ও প্রাণের উচ্ছ্বাসের সাথে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বসন্ত যেমন নতুন জীবনের বার্তা দেয়, তেমনি সরস্বতী পূজা নতুন চিন্তা, সৃজনশীলতা ও আশার সূচনা করে।
পূজামন্ডপে সরস্বতী দেবীর বন্দনায় ঢাক- ঢোল - কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে । হিন্দু পুরান মতে, সরস্বতী পূজার দিনে ব্রক্ষা সৃষ্টির কাজ শুরু করেছিলেন। সরস্বতী পূজা ঐতিহ্য অত্যন্ত প্রাচীন। শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য সরস্বতী মায়ের আর্শীবাদ কামনা করতো। সরস্বতী পূজা মানুষের মনের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার আহ্বান। জ্ঞান ও বিদ্যার আলোকে আলোকিত হোক জীবন, সমৃদ্ধ হোক দেশ ও সমাজ।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।