
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা।। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলায় ভোটকেন্দ্রগুলো যেন পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত নাগরিক উৎসবে। সকাল গড়াতেই জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দেখা যায় দীর্ঘ সারি—নারী, পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো নির্বাচনী পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন অনেকে। তরুণ ভোটারদের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ, আর বয়োজ্যেষ্ঠদের চোখেমুখে দায়িত্ববোধের দীপ্তি।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা ঈশিতা রায় বলেন, “এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছি। বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেন্দ্রে আসতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এটি আমার জীবনের এক স্মরণীয় দিন।”
মিনতি রানী বসাক নামে এক মধ্যবয়স্ক নারী ভোটার জানান,“ভোট দিতে এসে ভালো লাগছে। পরিবেশ শান্তিপূর্ণ, কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিতে পারছি।” দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটারদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। তারা প্রত্যাশা করেন, এই নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য—যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে। ২০২২ সালের জাতীয় জনশুমারি অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২২.১৪ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এ জনগোষ্ঠীর রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এবারের নির্বাচনে তাদের দৃশ্যমান উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মনে করেন, সকল সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করে। জনগণের সরব উপস্থিতিই প্রমাণ করে—গণতন্ত্রের শক্তি নিহিত থাকে ভোটের বাক্সে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভোটকেন্দ্রগুলোতে তাই ছিল একটাই বার্তা—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবার সমান অঙ্গীকার।