
জাহিদুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফসলের শত্রু ইঁদুর মারতে পাতা হয়েছিল ফাঁদ, কিন্তু সেই ফাঁদই যে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে তা হয়তো ভাবেননি কেউ। খুলনার কয়রা উপজেলায় ধানখেতে দেওয়া বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন লতিকা বৈদ্য (৪০) নামের এক গৃহবধূ।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের মহেশ্বরীপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত লতিকা ওই গ্রামের বরুণ বৈদ্যর স্ত্রী।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় মাঠ থেকে গরু আনতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন লতিকা। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। উদ্বিগ্ন স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিরুপায় হয়ে বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকেও জানানো হয়।
অবশেষে রোববার সকালে পথচারীরা ধানখেতের পাশে লতিকার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আমন খেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় তা ঠেকাতে নিরোদ রায় নামের এক কৃষক তার জমির চারপাশে অবৈধভাবে খোলা বৈদ্যুতিক তারের বেষ্টনী দিয়ে রেখেছিলেন। কোনো সতর্কতা সংকেত ছাড়াই দেওয়া এই মরণফাঁদে অসাবধানতাবশত পা দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই লতিকার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কয়রা থানার ওসি (তদন্ত) শাহ আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধানখেতে ইঁদুর মারার জন্য পেতে রাখা বৈদ্যুতিক ফাঁদই এই মৃত্যুর কারণ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ফসলি জমিতে এভাবে আলগা বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি জননিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। লতিকার এই অকাল মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল গ্রামীণ জনপদে অসচেতনতা ও অব্যবস্থাপনার চড়া মূল্যের কথা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।