1. admin@ajkerpratidin.com : admin : Khokon Howlader
  2. emranniloy53@gmail.com : NILOY :
  3. info.popularhostbd@gmail.com : PopularHostBD :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আশুলিয়ায় অভিমানেই প্রাণ দিল ১৬ বছরের কিশোরী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র অভিযানে গাঁজাসহ আটক ১ গেমের টাকার জন্য মাকে বটি দিয়ে মারধর, আনোয়ারায় যুবক গ্রেপ্তার মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পেট্রোল কেলেঙ্কারি: ফিলিং স্টেশনের জ্বালানি অন্যত্র বিক্রি, আটক ২ পূর্ব শত্রুতার বিরোধের জেরে রাতে দোকানের মালামাল লুটপাটের অভিযোগ ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবি‘র অভিযানে বিপুল পরিমানে মাদক আটক আশুলিয়ায় ডিবির অভিযানে ১০০ পুড়িয়া হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার উজিরপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে—দীর্ঘ সময় লাইনে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে ৮০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার ‎গৌরনদীতে উন্নয়ন ও সুশাসন শীর্ষক গণঅধিকার পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সানের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন ৭৪ বছরের বৃদ্ধ কালীপদ শীল

আজকের প্রতিদিন
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : সময়ের স্রোত বয়ে গেছে অনেক দূর, বদলেছে গ্রামবাংলার জীবনযাত্রা। তবু জীবনের লড়াই থামেনি ৭৪ বছরের বৃদ্ধ কালীপদ শীলের। আধুনিকতার ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী “সান দেওয়ার” কাজটিকেই আঁকড়ে ধরে তিনি টিকে আছেন জীবিকার সন্ধানে। প্রায় ৫৫ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে তাঁর জীবন।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাতানী ইউনিয়নের পুরান বাতাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা, পাঁচ সন্তানের জনক কালীপদ শীল। ১৯৭২ সালে জীবিকার তাগিদে তিনি শুরু করেন সানের কাজ। সেই শুরু—আজও থামেনি তাঁর হাতের ছন্দ। বয়সের ভার কাঁধে চেপে বসলেও থামেনি তার কর্মস্পৃহা।তিতাস উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাতাকান্দি পশ্চিম বাজার সংলগ্ন স্থানে তিনি গড়ে তুলেছেন ছোট্ট একটি দোকান—“মা কালি সান ঘর”। এই দোকানেই প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেচি, ছুরি, দা, কাঁচি কিংবা কৃষিকাজের বিভিন্ন ধারালো যন্ত্রে সান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

কালীপদ শীল জানান, জীবনের শুরুটা ছিল বৃহত্তর দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে। সেখানে টানা ৩৬ বছর সানের কাজ করেছেন তিনি। বয়স বাড়তে থাকায় দূরের পথ আর পাড়ি দিতে পারেননি। তাই প্রায় ১৯ বছর আগে নিজ এলাকার বাতাকান্দি পশ্চিম বাজারে গড়ে তোলেন নিজের দোকান। তারপর থেকে এখানেই চলছে তাঁর জীবনসংগ্রাম।

পরিবারের কথাও বলতে গিয়ে কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই বৃদ্ধ কারিগর। তাঁর সংসারে রয়েছে স্ত্রী, তিন ছেলে ও দুই মেয়ে এবং নাতি-নাতনি। ২০২১ সালে বড় ছেলে স্ট্রোক করে মারা গেলে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের দায়িত্বও এসে পড়ে কালীপদ শীলের কাঁধে। দ্বিতীয় ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। ছোট ছেলে বাড়িতেই থাকেন। দুই মেয়েকে তিনি বিয়ে দিয়েছেন—তাঁরা স্বামীর সংসারে সুখেই আছেন বলে জানান তিনি।

বৃদ্ধ কালীপদ শীল বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কাজ শিখছি। ১৯৭২ সাল থেকে সানের কাজ করছি। এখন বয়স হয়েছে, কিন্তু কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। এই কাজ করেই যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনো রকমে সংসার চালাই।”

বাতাকান্দি পশ্চিম বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, কালীপদ শীল শুধু একজন কারিগর নন, তিনি এই এলাকার এক জীবন্ত ইতিহাস। দশকের পর দশক ধরে তাঁর হাতের সানেই ধার পায় এলাকার অসংখ্য মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি।

সময়ের সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পেশা, বদলে যাচ্ছে মানুষ। কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও কর্মকে সঙ্গী করে যে মানুষটি এখনো অবিচল—তিনি কালীপদ শীল। জীবনের কষ্ট, দুঃখ আর সংগ্রামের মাঝেও তাঁর চোখে ভাসে একটুকরো তৃপ্তি—নিজের শ্রমে বেঁচে থাকার গর্ব।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান ©২০১৮-২০২৬ ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Design BY POPULAR HOST BD