
মোঃ শফিকুল ইসলাম। গৌরনদী, প্রতিনিধিঃ
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) গৌরনদী উপজেলা শাখার আয়োজনে সুশীল সমাজ, শিক্ষক সমাজ, ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গৌরনদী উপজেলায় উন্নয়নধারা জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে “উন্নয়ন ও সুশাসন” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় গৌরনদী কারিতাসের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস মিয়া।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্থী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়া। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী প্রেসক্লাব ও পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হানান, গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. জাকির শরীফ এবং সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. বাদশা সিকদার।
গণঅধিকার পরিষদ গৌরনদী উপজেলা সভাপতি সাংবাদিক সোলায়মান তুহিন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন টরকি বন্দর বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. অলিউল ইসলাম, উপজেলা এনজিও সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রমানন্দ ঘরামী, গণঅধিকার পরিষদ গৌরনদী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. নিশান হাওলাদার, সহ সভাপতি রুয়েদ হাসান রুবেল, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম উজ্জ্বল, মো. আলী হোসেন, নারী বিষয়ক সম্পাদক মোসা. কানিজ ফাতেমা, পৌর যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ নাজমুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপক মন্ডল, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ গৌরনদী উপজেলা সভাপতি মেহেদী হাসান তানভীর, গৌরনদী ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মো. বাপ্পি শিকদারসহ গণঅধিকার পরিষদের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়, যা সভাটিকে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক করে তোলে।
আলোচনা পর্বে বক্তারা গৌরনদীর সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং একটি জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনকে সময়ের অন্যতম দাবি হিসেবে উল্লেখ করে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বক্তারা বলেন, নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুশাসিত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, স্বচ্ছ নেতৃত্ব এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি টেকসই উন্নয়নধারা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।