
স্টাফ রিপোর্টার, নরসিংদী : নরসিংদীর পলাশে এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী জুড়ে ভয়াবহ ভাবে কচুরিপানা ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর বুকে ঘন ঘন সবুজ স্তর তৈরীতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় স্হানীয় বাসিন্দা, জেলে নৌযান চলাচলে চরম দুর্ভোগে মানুষ পড়েছেন।
পলাশের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী।এক সময় এই নদীর পাড়ে ছিল ফসলের বিস্তীর্ণ ফসলের চরাঞ্চল। শিল্পায়নে এখন আর নেই। কমে গেছে শীতলক্ষ্যা নদীর প্রশস্ততা। শিল্প বর্জে নদীর পানি দূষিত হয়েছে।
পলাশের চরসিন্দুর হতে ডাংগা পর্যন্ত প্রায়ই ১৪কি,মি নদী কচুরিপানায় ভরে গেছে। চৈত্র মাস হতে নদীর বুকে প্রতিবছরই দেখা যায় কচুরিপানা ভেসে যেতে। তবে এবারের মত এমন কচুরিপানা আগে কখনোই ভেসে যেতে দেখা যায়নি। নদীটির দিকে তাকালে মনে হয়ে এটি একটি বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যম গতি স্রোতে উত্তর দিক হতে ভেসে আসা পুরু নদী কচুরিপানায় ঠাসা। নদীর এপার ওপার উত্তর দক্ষিণ দিকে ধীর গতিতে কচুরিপানা ভেসে যাচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে নৌ- চলাচলে।
ঘোড়াশাল খেয়াঘাটে পারাপার করতে গিয়ে যাএীরা বলেন আগে ৫/ ১০ মিনিটে সময়ে ইঞ্জিল চালিত নৌকা দিয়ে নদী পার হওয়া যেত । এখন কুচুরিপানার জন্য ২৫/৩০ মিনিট লাগে। একই অবস্থা ঘোড়াশাল বাজার পলাশ বাজার ও চরসিন্দুর বাজারের খেয়াঘাটের পারাপারে।
স্হানীয় মানুষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদী পরিষ্কারের কোন উদ্যেগ গ্রহন করা হয় না। ফলে কচুরিপানা স্তুপ হয়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, নদীতে অতিরিক্ত কচুরিপানা বিস্তার হলে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে। এতে পানির স্বাভাবিক অক্সিজেন প্রবাহ কমে গিয়ে মাছ ও জলজ পানির ক্ষতি হচ্ছে।
স্হানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের দ্রুত ব্যবস্হা নেয়া হবে।