
নেত্রকোনা প্রতিনিধি, হাবিবুর রহমান :
নেত্রকোনার মদন উপজেলার কেশজানি বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলি আহমদ ও ব্যবস্থাপনা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুল হক (রুবেল) এর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে পাঁচটি পদে এই প্রার্থীদের সাথে গোপন বৈঠক দর কষাঘষি সহ অর্থের লেনদেন কার্যকলাপ ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী লিখিত অভিযোগ সূত্র জানা যায়, কেশজানি বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে গত ১৩ই মে, ২০২৪ তারিখে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পায় পাঁচটি পদে জনবল নিয়োগ করা হবে । ১। সহকারী প্রধান শিক্ষক, ২। কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, ৩। অফিস সহায়ক, ৪। পরিছন্নতা কর্মী, ৫। আয়া।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোপনে প্রার্থীদের সাথে টাকার দর কষাকষি ও গোপন বৈঠক চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তারা দুজন আর্থিক লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে পন্থা খোঁজেচেন তাদের পছন্দের প্রার্থীদের সাথে।
অভিযোগে এও উল্লেখ রয়েছে গত ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষক অন্যায় ভাবে নিজ লাভবানের সার্থে অদক্ষ আইসিটি কম্পিউটার শিক্ষিকা মোছাঃ শাহানাজ পারভীন কে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
কম্পিউটার আইসিটি শিক্ষিকা একজন অদক্ষ শিক্ষিকা তিনি নিজেই জানেন না কম্পিউটার চালাইতে, তবে কি করে ছাত্র/ছাত্রীদেরকে কম্পিউটার আইসিটি বিষয়ে শিক্ষা দিবেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক নিজের স্বার্থে এই অদক্ষ আইসিটি কম্পিউটার বিষয়ে শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেন।
অভিযোগকারী, সাবেক ইউপি সদস্য বর্তমান কেশজানী বিদ্যানিকেতন বিদ্যালয়ের অভিভাবক পদে নির্বাচিত সদস্য মোঃ মাখন মিয়া বলেন,
প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না তারা দুই।বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম যখন যা মন চায় তাই করছেন তার এমন কার্যকলাপে সবাই অতিষ্ঠ।
অবিলম্বে তাকে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতির পদ থেকে বাদ দিতে হবে। অন্যথায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে। বিদ্যালয়ের পাঁচটি পদের নিয়োগ বাণিজ্য করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা দুজন। পূর্বেও অধ্যক্ষ আইসিটি কম্পিউটার একজন শিক্ষিকা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিয়েছে এতে করে বিদ্যালয়ের ভাব মূর্তি নষ্ট হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নষ্ট করার জন্য তারা নিয়োগ বাণিজ্য করার চেষ্টা চালিয়েছেন এই পাঁচ পদের প্রার্থীদের সাথে।
ইতিপূর্বে বিদ্যালয়ের মাঠের ১৫ টি রেন্ট্রি গাছও কেটে ৭ লক্ষ টাকা বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষকে অবগত না করে এবং টাকাও আত্মসাৎ করেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শামসুল হক রুবেলের বিদ্যালয় নিয়ে ৭ বছর ধরে মামলা ছিল। সে বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়া বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য নিয়ে এলাকার জনগণের মনে কৌতূহল জাগে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলি আহমদ তিনি বলেন,এই অভিযোগ যৌক্তিক মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সাথে গোপনে কোথাও বৈঠক করিনি এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পরে আমি কোন প্রার্থীর সাথে আমি কোথাও যোগাযোগ করিনি।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুল হক (রুবেল) জানান, আমি কোন নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত না, আর ১৫ টি রেন্ট্রি গাছ কাটা তা আমার আমলে হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বারী তিনি বলেন, কেশজানি বিদ্যানিকেতন বিদ্যালয়ের ১৫ টি রেন্ট্রি গাছ কেটে বিক্রি ও বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি আগামীকাল রবিবার বিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি যাবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।