
জামালপুর প্রতিনিধি : প্রিয় জামালপুর জেলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় পশ্চিম ও পূর্ব ঘুগরাকান্দিতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে, ত্রাণ বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রিয় জামালপুর জেলা ফাউন্ডেশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ ফয়সাল আহাম্মেদ কাইমুল ইসলাম কাকন,নাঈমুর রহমান লান্জু, শেখ মোহাম্মদ রাকিব, মোঃ সাব্বির আহমেদ, রুবেল হাসান সহ মোট ১২ জন স্বেচ্ছাসেবী।
বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে শেরপুরে। নিম্নাঞ্চলে এখনও বন্যার পানি রয়ে গেলেও উঁচু এলাকা শুকিয়েছে আরও চার দিন আগেই। জেগে উঠছে ক্ষত। ঘরবাড়ি, ফসল, গবাদিপশু, আসবাবপত্র, পুকুর ভরা মাছ এসব এখন দুঃস্বপ্ন বন্যাদুুর্গত এলাকার মানুষের। ত্রাণের চেয়ে এখন জরুরি হয়ে পড়েছে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসন।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বৃহস্পতিবার রাতে বন্যার কবলে পড়ে জেলার ৪টি পাহাড়ি নদী-তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। শুক্রবার ভোর হতেই এসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে যায়। সকাল হতে হতেই নদী তীর উপচে এবং বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে লোকালয়ে প্রবেশ করে ঢলের পানি।
এ সময় নদী-তীরবর্তী বাসিন্দারা কোনোমতে দিগবিদিক ছুটে প্রাণে রক্ষা পান। প্রবল বেগে মুহূর্তেই জলোচ্ছ্বাসের মতো পানি প্রবেশ করে কাঁচা ও টিনশেড ঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মুহূর্মুহূ শব্দে ধসে পড়তে থাকে মাটির দালানগুলো। এ সময় ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও ধান-চাল থেকে বস্ত্র কোনো কিছুই বের পারেননি তারা। চাপা পড়ে ঘরের নিচে কিছু ভেসে যায় বানের পানিতে। খুব কম সময়ে তলিয়ে যায় জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতি ও শ্রীবরদীর উজানে থাকা গ্রামগুলো।
পরদিন শনিবার এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল ও শেরপুর এবং নকলায় প্রবেশ করে ঢলের পানি। ফলে শনিবার থেকে বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে জেলার ৫২টি ইউনিয়নের মধ্যে আংশিক এবং পুরোপুরি মিলিয়ে অন্তত ২৮টি ইউনিয়ন। রোববার উঁচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যায়। সোমবার থেকে ধীর গতিতে কমতে থাকে নিম্নাঞ্চলের পানি। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১২টি ইউনিয়ন আংশিক বন্যায় ডুবে থাকে।
গত ছয় দিনের বন্যায় জেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বন্যার পানিতে ডুবে মারা যায় নারী ও শিশুসহ ১০ জন। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, ৬টি মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা মেরামতে লাগবে ১১ কোটি টাকা।
এ ছাড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার মহাসড়ক। যা মেরামতে লাগবে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তথ্য মতে, ১২২টি রাস্তার ৪০৯ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা মেরামতে লাগবে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় আমন ধান ও সবজি মিলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার হেক্টর জমির ফসল যার বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। জেলার প্রায় ৭ হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি। এ ছাড়াও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য মতে, জেলায় বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ হাজার বসতবাড়ি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১০ হাজারের ওপরে।
এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তার পরিসংখ্যান এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা সম্পন্ন করতে পারেননি। নদীভাঙন ও বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পূর্র্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত। তবে এর পরিমাণও হবে বেশ উল্লেখ করার মতোই।
সম্পাদক ও প্রকাশক : খোকন হাওলাদার, যোগাযোগ : আমির উদ্দিন সুপার মার্কেট (২য় তলা), নিশ্চিন্তপুর (দেওয়ান পাম্প সংলগ্ন), আশুলিয়া, ঢাকা- ১৩৪৯, বার্তা কক্ষ: ০৯৬৯৬৮২০৬৮১, ইমেইল : ajkerpratidin@gmail.com।
Ajker Pratidin গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান © 2018-2024 ajkerpratidin.com সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।