সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছেন নাফিজের লাশ বহনকারী সেই রিকশাচালক
আজকের প্রতিদিন
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
১৪
বার পড়া হয়েছে
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শত বাধার মুখেও গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসেন রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ।
এই অকুতোভয় রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আবেগাপ্লুত হয়ে নূর মোহাম্মদ বলেন, সংসদের আমন্ত্রণ পাওয়া তার জীবনের বড় অর্জন।
আজ তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে তিনি পড়তে না পারায় কার্ডে কী লেখা আছে তা জানেন না। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা তাকে কার্ডটি যত্ন করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোর গোলাম নাফিজ।
সে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ–৫ পেয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। পরিবারসহ তারা মহাখালী এলাকায় বসবাস করত। দুই ভাইয়ের মধ্যে নাফিজ ছিল ছোট।পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী সেতুর নিচে গুলিবিদ্ধ হয় নাফিজ।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয়। তখনও সে রিকশার রড শক্ত করে ধরে রেখেছিল।
রিকাশাচালক নূর মোহাম্মদ
রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢোকার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক জানান। পরে তিনি নাফিজকে নিয়ে খামারবাড়ির দিকে চলে যান।
সেসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ ঘটনাস্থলে নাফিজকে নিয়ে যাওয়ার কয়েকটি ছবি ধারণ করেন।
ওই ছবি ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দিবাগত রাতে পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখেই নাফিজের পরিবার তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে।
ছবিতে রিকশার পেছনে থাকা একটি মোবাইল নম্বর দেখে নাফিজের পরিবারের সদস্যরা পরে নূর মোহাম্মদকে খুঁজে বের করেন।
ঘটনার পর এক গণমাধ্যমকে নূর মোহাম্মদ জানান, সেদিন তিনি নিজের রিকশা চালাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই ফার্মগেট এলাকায় সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যান। এক পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে নিয়ে গেলে উপস্থিত কয়েকজন মিলে একজন আহত ব্যক্তিকে তার রিকশায় তুলে দেন। তাকে প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়ির দিকে গেলে কয়েকজন মিলে আহত নাফিজকে তার রিকশা থেকে নামিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
এক ব্যবসায়ী ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নূর মোহাম্মদের কাছ থেকে রিকশাটি কিনে নেন। পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের সেই রিকশাটি হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।