
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিবেদক,মোঃ শফিকুল ইসলাম।
১৯৫২ সালের সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ওরফে ছরু কাজীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মস্থান বরিশালের গৌরনদী ও ঢাকাস্থ ধানমন্ডি বাসভবনে আজ (বৃহস্পিবার) নানান কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউÐেশনের সাধারন সম্পাদক ও গৌরনদী বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির জানান, এ উপলক্ষে তার জন্মভূমি গৌরনদীর ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বরে ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং লাখেরাজ কসবা গ্রামে মরহুমের পারিবারিক উদ্যোগে গৌরনদীরর কসবা গ্রামে তার কবর ও মসজিদ প্রাঙ্গনে ও ঢাকা ধানমন্ডি নিজ বাসভবনে দিন ব্যাপি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জানা গেছে, ১৯২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর লাখেরাজ কসবা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন কাজী গোলাম মাহবুব ওরফে ছরু কাজী। তিনি ওই গ্রামের কাজী আব্দুল মাজেদের জ্যেষ্ঠপুত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তিনি ভাষাসহ পাকসরকারের অন্যান্য বৈষম্যমূলক দিকগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেন। ওই বছরের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে অনুষ্ঠিত হরতাল কর্মসূচীতে পিকেটিং করতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারা ভোগ করেন। কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি তৎকালীন সময়ের পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমদ্দিন কর্তৃক উর্দুকে পাকিস্তানে একামাত্র রাষ্ট্রভাষার ঘোষনা দিয়ে পল্টনে বক্তব্যে রাখার পর নতুন করে ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তিনি সর্বদলীয় সভার আয়োজন করেন। ওইসভায় তাকে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে তার গৌরবোজ্জল ভূমিকা রয়েছে। আজ রোজ বৃহস্পতিবার গৌরনদীরর কসবা গ্রামে তার কবর ও মসজিদ প্রাঙ্গনে ও ঢাকা ধানমন্ডি নিজ বাসভবনে দিন ব্যাপি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ ঢাকার একটি হাসপাতালে সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক কাজী গোলাম মাহবুব মারা যান।