
গাজায় যুদ্ধত্তোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী ‘খুব শিগগিরই’ মোতায়েন করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, যে ভূখণ্ডটিতে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলের হামলায় মানবিক সংকট এখনও চরমে।

আল জাজিরা জানায়, গাজায় দুই বছর মেয়াদি একটি অন্তবর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনায় বসছে। এমন সময়েই ট্রাম্প এই আশাবাদী মন্তব্য করলেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, “খুব তাড়াতাড়িই এটি হতে চলেছে। গাজার পরিস্থিতিও ভালভাবে এগোচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “অত্যন্ত শক্তিশালী কয়েকটি দেশ এ উদ্যোগে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
“ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসকে নিয়ে কোনও সমস্যা হলে তারা হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত। হামাস এখনও নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সম্মতি দেয়নি।”
এই আন্তর্জাতিক বাহিনীর দায়িত্ব হবে বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ফিলিস্তিনের পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত মঙ্গলবার আল জাজিরাকে বলেছেন, “গাজায় যে কোনও শান্তিরক্ষী বাহিনীর (স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স) পূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈধতা থাকতে হবে, যাতে তারা ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে পারে।”
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র খসড়া প্রস্তাবটি এই সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদের ১০ নির্বাচিত সদস্য দেশ ও কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদারের কাছে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই আলোচনা শুরু হওয়ার কথা।
রয়টার্সের তথ্যমতে, মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্ক প্রস্তাবটি দেখেছে। এতে ২০ হাজার সদস্যের একটি শান্তিরক্ষী বাহিনীকে “প্রয়োজনে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার” অনুমতি দেওয়া হবে অর্থাৎ, তারা প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করতে পারবে।
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এখনও অনিশ্চিত, যা ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার একটি মূল শর্ত। প্রস্তাবিত বাহিনীর অন্যতম দায়িত্ব হবে হামাসের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা ও তার “আক্রমণাত্মক অবকাঠামো” পুনর্গঠনে বাধা দেওয়া।
ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবেই গত ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি হয়। তবে ইসরায়েল একাধিকবার ওই চুক্তি ভঙ্গ করে গাজায় বোমা হামলা চালিয়েছে এবং সাহায্য প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।
হামাসকে শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তুরস্ক। এ সপ্তাহে ইস্তানবুলে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোতেও সমর্থন দিয়েছে দেশটি।
গাজায় ইসরায়েলের “গণহত্যামূলক যুদ্ধ” বন্ধে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছে তুরস্ক। তারা বৈঠকে ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধ করা এবং গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর অনুমতি দেওয়ার দাবি জানায়।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার স্পষ্ট করে বলেছেন, গাজায় তুরস্কের উপস্থিতি তারা মেনে নেবে না।
এর আগেই সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “ইসরায়েল গাজার নিরাপত্তার দায়িত্ব এবং একটি সুরক্ষা বলয় বজায় রাখবে, ভবিষ্যতের জন্য হলেও।”
গত মাসে গাজা সফরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান বলেছিলেন, “গাজায় কোনও মার্কিন সেনা পাঠানো হবে না।”