
ইউনুস আলী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চার দিনের ছুটির পর শিল্পাঞ্চল গাজীপুরে ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। এতে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন উত্তরবঙ্গগামী হাজারো যাত্রী। এই সুযোগে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, কলেজগেট ও সফিপুর এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পোশাক কারখানায় আজ থেকে বিশেষ ছুটি শুরু হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। যানবাহন সংকটের কারণে শত শত মানুষকে দীর্ঘ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভাড়া ২ থেকে ৩ গুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী জামাল হোসেন জানান, ঢাকা থেকে চন্দ্রা আসতে যেখানে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে, আজ সেখানে ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে। আরেক যাত্রী কামাল জানান, ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকার নিচে কোনো বাসে ওঠা যাচ্ছে
বাস না পেয়েএবং অতিরিক্ত ভাড়ার ভয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। গার্মেন্টসকর্মী জমিলা খাতুন বলেন, ভোটের জন্য ছুটি পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু বাড়ি যাওয়ার মতো বাস পাচ্ছি না। ট্রাকে করেও ৪০০-৫০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। এত ভোগান্তি ঈদের সময়ও দেখিনি।
সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন এবং ১১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আজ ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে। এই লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করেই মূলত মহাসড়কে আজ এই জনস্রোত তৈরি হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে রাস্তায় নামায় যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়েছে। এছাড়া পুলিশের একটি বড় অংশ নির্বাচনী ডিউটিতে থাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।