
দীর্ঘ রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও টানটান নির্বাচনী লড়াই শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু (ধানের শীষ প্রতীক)। শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক অধ্যুষিত এ জনপদে বিএনপির এ জয়কে দলটির সাংগঠনিক শক্তির পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডা. সালাউদ্দিন বাবু মোট ১,৯০,৯৭৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি প্রার্থী দিলশানা পারুল (শাপলা কলি প্রতীক) পান ১,২৫,২৮৩ ভোট। ফলে ৬৫,৬৯৩ ভোটের ব্যবধানে নিশ্চিত হয় বিএনপি প্রার্থীর জয়।
সংগঠিত প্রচার-প্রচারণাই সাফল্যের চাবিকাঠি
নির্বাচন ঘিরে সাভার ও আশুলিয়া থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক ও সুশৃঙ্খল প্রচার-প্রচারণা চালায়।
দীর্ঘদিন পর নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছিল বাড়তি উদ্দীপনা। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এলাকার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ভোটার ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন।
ভোটারদের কাছে জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সাভার গড়ার অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য
ডা. সালাউদ্দিনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার পিতা ছিলেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি নিজেও অতীতে দু’বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও জনসংযোগ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বিজয়ী প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া
বিজয় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই জয় সাভার-আশুলিয়ার আপামর জনগণের জয়। গত দেড় দশকের বঞ্চনা কাটিয়ে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শান্তির সাভার গড়াই হবে আমার অঙ্গীকার।”
আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তবে সতর্কতা
ফলাফল ঘোষণার পর সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল করেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে টহল জোরদার করেছে।
শ্রমনির্ভর এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপির বড় ব্যবধানের জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।