
জাহিদুল ইসলাম, কয়রা ( খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার উপকূলীয় জনপদ কয়রার লাখো মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এখানে স্বাস্থ্যসেবা এখন অনেকটাই ‘আইসিইউ’তে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনের কাজ ঝুলে থাকায় এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রসূতি মায়েরা পড়ছেন চরম ঝুঁকিতে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) কয়রার নবনির্বাচিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় যোগ দিলে এসব জরাজীর্ণ চিত্র উঠে আসে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় হাসপাতালের এক ডজন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের কাজ মাঝপথে স্থগিত হয়ে আছে। ফলে জরুরি ও বহির্বিভাগসহ সাধারণ চিকিৎসা কার্যক্রমে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
বর্ষায় হাসপাতালের মাঠে পানি জমে থাকে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেনারেটরটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘ ৫ বছর। অথচ উপকূলীয় এই এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়। হাসপাতালটিতে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নেই কোনো স্থায়ী চালক। এমনকি জাইকা প্রদত্ত নতুন অ্যাম্বুলেন্সটির রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক নিয়োগের বিষয়টিও ঝুলে আছে। জরুরি প্রসূতি সেবা (EOC) চালুর জন্য নেই কোনো গাইনী বা সার্জারি কনসালটেন্ট। ফলে মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরে পাঠাতে গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা, পথেই ঝরছে প্রাণ।
কয়রা ও বেদকাশির মতো দুর্গম ইউনিয়নগুলোর সাব-সেন্টারগুলো আইলা-পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত হয়ে এখনও ভবনহীন অবস্থায় আছে। ১৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন হলেও তা অজানালক্ষ্যে পড়ে আছে। এমনকি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য ল্যাব টেকনিশিয়ান (এমটি) পদটিও শূন্য। এদিন মতবিনিময় সভার পাশাপাশি দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কয়রাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ ও জনবল সংকটের বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উত্থাপন করব।” উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, “আমরা সীমাবদ্ধতার মাঝেও সেরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে গাইনী ও সার্জারি কনসালটেন্ট এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদান অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
এতে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান, অধ্যক্ষ মোঃ ওলিউল্লাহ সহ-সভাপতি বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, খুলনা জেলা,নায়েবী আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা সুজাউদ্দিন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর চিকিৎসক ডাঃ সুজিত কুমার বৈদ্য, আশিক মাহমুদ , ডাঃ ডালটন সানা প্রমুখ।
উপকূলীয় এই প্রান্তিক জনপদের মানুষের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে যেন একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।