স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো—আব্দুল জলিল মল্লিক, কবির মল্লিক, সিদ্দিক মল্লিক (পিতা: মৃত আব্দুস ছামাদ মল্লিক) এবং আব্দুল হক মল্লিক ও আব্দুর রব মল্লিক (পিতা: জয়নাল মল্লিক)। অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “হঠাৎ দেখি জলিল মল্লিকের ঘরের ওপর দিয়ে ধোঁয়া উঠছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঘরগুলোতে। আমরা সবাই মিলে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল জলিল মল্লিক বলেন, “আমি তখন বাড়ির বাইরে ছিলাম। হঠাৎ খবর পাই ঘরে আগুন লেগেছে। এসে দেখি ঘরের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার জীবনের সব সঞ্চয় এই ঘরেই ছিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবো বুঝতে পারছি না।”
আরেক ভুক্তভোগী কবির মল্লিক বলেন, “আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, ধান-চাল সব পুড়ে গেছে। আমরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই।”
খবর পেয়ে উজিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নির্ধারণ করে সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে খবর পেয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আলী সুজা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর খোঁজ খবর নেন। এ সময় তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরগুলো ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোঃ আলী সুজা বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। আমরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। কেউ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।” তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে থাকবে।”