
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের যুব সমাজ দুইটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধিতে জর্জরিত—মাদকাসক্তি ও অনলাইন জুয়া। প্রযুক্তির অগ্রগতির সুফল যেমন সমাজকে দিয়েছে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত, তেমনি এর অপব্যবহার সমাজে সৃষ্টি করছে ভয়াবহ বিপর্যয়। বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।

বিভিন্ন গবেষণা ও পর্যালচনায় দেখা গেছে, বেকারত্ব, পারিবারিক অবহেলা, কিশোর বয়সে ভুল বন্ধু নির্বাচন এবং মানসিক চাপ থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যেই অধিকাংশ তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। একবার এই ভয়াল পথে পা রাখলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে, তারা হয়ে ওঠে পরিবার ও সমাজের বোঝা।
তবে আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো—সাম্প্রতিক সময়ের অনলাইন জুয়ার প্রসার। মোবাইল অ্যাপ, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ‘ডিজিটাল জুয়া’ তরুণদের আকৃষ্ট করছে ব্যাপক হারে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের মোহে পড়ে অনেকে নিজস্ব সঞ্চয় তো হারাচ্ছেনই, পাশাপাশি অপরাধের পথেও নামছেন।
ঢাকার প্রখ্যাত মনোবিদ ডা. ফারহানা হক বলেন, “অনলাইন জুয়ার নেশা তরুণদের আত্মবিশ্বাস হরণ করছে, ভেঙে দিচ্ছে পারিবারিক সম্পর্ক। অনেকেই হতাশায় ভুগে মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য মতে, চলতি বছরেই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত একাধিক চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহু তরুণকে আটক করা হয়েছে। তবুও প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে চক্রগুলো পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে। একই অবস্থা মাদক ব্যবসাতেও।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ। শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতাই নয়, বরং সচেতন অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজকর্মী এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত কার্যক্রম জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারলে দেশের ভবিষ্যৎ চরম হুমকির মুখে পড়বে। এখনই সময়—তাদের পাশে দাঁড়ানো, সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিকল্প, গঠনমূলক পথ দেখিয়ে দেওয়ার।