
নিজস্ব প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদীতে একটি মুদি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দোকান মালিক মো. বখতিয়ার বেপারী গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—সুন্দরদী টরকী এলাকার কামাল ঘরামীর ছেলে মো. আরিফ ঘরামী, মো. ইরান সরদার, মো. সোহেল ঘরামী, মনির ঘরামীর ছেলে মো. নাঈম ঘরামী ও মো. ইউসুফ।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সুন্দরদী নিলখোলা সাকিন এলাকায় বাদীর নিজ মুদি দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে তার প্রবাসী ছোট ভাইয়ের কাছে টাকা দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রায়ই দোকানের সামনে এসে মাদক সেবনসহ আপত্তিকর কর্মকাণ্ড করতেন। ঘটনার রাতে প্রথম অভিযুক্ত দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাওয়ার পাশাপাশি সেখানে প্রস্রাব করছিলেন বলে অভিযোগ করেন দোকান মালিক বখতিয়ার বেপারী। তিনি বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বখতিয়ার বেপারী ও তার প্রবাসী ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও নীলাফুলা হয় বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার দোকানঘরে ভাঙচুর চালিয়ে দোকানের ভেতর থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ও বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় অভিযুক্তরা উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেছেন বখতিয়ার বেপারী।
ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করে গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলা-ভাঙচুর ও টাকা লুটের ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল।