
সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) : ঢাকার ধামরাইয়ে জমি দখলের চেষ্টায় অতর্কিত হামলায় দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় মো. বাবুল হোসেন বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান। গ্রেপ্তারকৃত আসামী ইসপাহানকে (৪৫) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড়চন্দ্রাইল মৌজার আরএস ৪০৮৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ১৩৪১ ও ১৩৪২ দাগের ৯ শতাংশ জমি বাদী বাবুল হোসেন ক্রয়সূত্রে মালিকানা ও ভোগদখলে থাকলেও প্রতিপক্ষ দেলোয়ার, শহিদুল, ইস্পাহান ও বাচ্চু মিয়াসহ একদল লোক জমিটি বিভিন্ন সময়ে দখলের চেষ্টা করে আসছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে বাদী তার দখলীয় জমি পরিদর্শনে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা লাঠি, লোহার রড, দা ও ধারালো অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে সেখানে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বাধা দিলে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। বাদীর চিৎকারে তার বড় ভাই রফিকুল ইসলাম (৬৫), ছেলে মো. সেলিম (৩২) ও ভাতিজা রাসেল (৩৪) এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, শহিদুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করেন। এছাড়া মো. বাচ্চু মিয়া লোহার পাইপ দিয়ে সেলিমের মাথায় আঘাত করতে গেলে তা তার ডান কাঁধে লেগে হাড় ভেঙে যায়। অন্য আসামিরা লাঠি ও রড দিয়ে বাদী ও তার ভাতিজাকে মারধর করে আহত করে।
এ সময় মো. বাচ্চু মিয়া বাদীর পাঞ্জাবির পকেটে থাকা নগদ ১ লাখ ২ হাজার টাকা নিয়ে নেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহতদের উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জমির মালিক বাবুল হোসেন বলেন, বাচ্চু মিয়া তার দলবল নিয়ে আমার উপরে হামলা করে। আমার ভাই ও আমার ছেলেকে মারাত্মকভাবে জখম করে। এর আগেও সে আমাকে প্রান নাশের হুমকি দিয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এঘটনায় আসামীরা পলাতক থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামীকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে, অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।