
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ইছামতি চা বাগানের মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে দেশের আগাম শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। প্রতিবছর দুর্গা পূজার ছয়দিন আগ থেকেই এই মন্দিরে দুর্গার নয়টি রুপে আগাম দুর্গাপূজা শুরু হয়। প্রতিদিন একটি করে দেবী দুর্গার নয়টি রুপের পূজা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সকালে মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে দেবী দুর্গার ৯টি রুপের মধ্যে (প্রথম রুপ) শৈলপুত্রী রুপের পূজা করা হয়। এভাবে পৌরাণিক নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেবী দুর্গার বাকি রুপের পূজা করা হবে।
পূজার দ্বিতীয় দিন দেবী ব্রহ্মচারিণী, তৃতীয় দিন দেবী চন্দ্রঘন্টা, চতুর্থ দিন দেবী কুম্মান্ডা, পঞ্চম দিন দেবী স্কন্দমাতা, ষষ্ঠ দিন দেবী কাত্যায়নী, সপ্তম দিন দেবী কালরাত্রি, অষ্টম দিন দেবী মহাগৌরী ও দেবী সিদ্ধিদাত্রী পূজিত হবেন। এরকম পর্যায়ক্রমে ৩ অক্টোবর বৃহস্পতিবার হতে ১২ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত চলবে দেবীর নয়টি রুপের পূজা। আগামী ১২ অক্টোবর হবে দেবীর বিসর্জন।
হিন্দু পুরাণ অনুসারে দেবী পার্বতীর নয়টি ভিন্ন রুপ। দেবী পার্বতীর দুর্গার রুপের নয়টি রুপকে বোঝানো হয় ৷ নয় রুপ হল যথাক্রমে- শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মাণ্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রী।
পূজার প্রথম দিন মঙ্গলচন্ডি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সারাদেশের হাজার হাজার পূূজা মন্ডপে কারিগররা যেখানে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সেখানে এই জায়গায় ঢাক, কাসা, শঙ্খে ও উলুধ্বনিতে মোহিত হচ্ছে পূজা মন্ডপ। দেশের মঙ্গল কামনায় দেবীর চরণে অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা। বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্তরা আগাম দুর্গা পূজা দেখতে এসেছেন।
পরিবারের সাথে পূজা দেখতে আসা তৃষা পাল বলেন, ‘আমরা মঙ্গলচন্ডী মন্দিরে প্রতিবছর পূজা দেখতে আসি। মায়ের নয়টি রূপের আলাদা আলাদা প্রতিমা তৈরি করে অনেক সুন্দর করে মন্ডপে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এখানেই দেশের একমাত্র আগাম দুর্গাপূজা হয়ে থাকে। মা পার্বতীর চরণে অঞ্জলি দিতে পেরে মনে অনেক তৃপ্তি পেয়েছি। জাগ্রত এই মন্দির দর্শন করে আমরা অনেক আনন্দিত। অনেক পরিচিতজনের সাথে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।
মঙ্গল চন্ডী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দাশ বলেন, এই বছর ১৪তম বছর নবদূর্গা পূজার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র নবদুর্গা পূজা এই মন্দিরে হয়ে থাকে। আমরা ১৪ বছর যাবত এই পূজা করে আসছি। মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে প্রার্থনা করি যাতে মা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করেন এবং দেশের মানুষ যেন ভালো থাকে। এই মন্দিরে হাজার হাজার দর্শক সমাগম ঘটে। আমরা আশাকরি কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে পূজা উদযাপন করতে পারব।
জানা যায়, প্রায় পাঁচশত বছর ধরে এখানে রয়েছে মঙ্গলচন্ডী দেবীর থলি। ২০১১ সালে প্রথম এই মন্দিরে শুরু হয় নবদুর্গা পূজা। প্রথমদিকে ভক্তদের সংখ্যা অনেক কম ছিলো। কিন্তু এখন পূজার সময় এখানে ভক্তদের ভীড় লেগে থাকে।