
হজ শেষে দেশে ফিরে পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির বাবার সঙ্গে দেখা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।
এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১৯ মে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। সেদিন দিবাগত রাতেই আমি হজের সফর শুরু করি। ওই সময়ই খবর পাই এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জামায়াত সোচ্চার।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট—যারা এ ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যারা এভাবে আত্মস্বীকৃত ধর্ষণকারী ও হত্যাকারী, এদের বিচার লম্বা হওয়া মানেই হলো এদের সহযোগিতা করা, অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া, দুষ্কৃতিকারীর পক্ষ নেওয়া।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘অনুরোধ করব, আত্মস্বীকৃত এ ধরনের অপরাধীর পক্ষে কোনো আইনজীবী যেন আদালতে না দাঁড়ান। এ বিষয়টি নিয়ে কেউ যেন কোনো ধরনের রাজনীতি না করেন। করলে শিশুটি আমাদের ক্ষমা করবে না।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চাই না। কিন্তু হয়েই চলছে, বন্ধ হচ্ছে না। এর মূল কারণ হলো—বিচারের নামে অবিচার, বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রতা এবং বিচারের নামে তামাশা। এসব কারণে বিচারের প্রতি মানুষের কোনো আস্থা নেই।’
শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বিচারের প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপের কারণে। আমরা চাই, এ সংস্কৃতি থেকে বিচার বিভাগ বের হয়ে আসুক। বিচার বিভাগ শতভাগ স্বাধীন হোক। স্বাধীনতা নিয়ে তারা ন্যায়বিচার করুক। আমরা এটিই দাবি করব।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এখন ধানাইপানাই করে আসামিরা আরও কারও নাম বলতে পারে বিচারকে দীর্ঘসূত্রতায় ফেলতে। এটি একটি চক্রান্ত। এই ঘটনার বিচার নিয়ে কোনো তামাশা করা হোক, আমরা তা চাই না।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আগামী ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওই দিনেই শুধু শিশুটির জন্য নয়, এ দেশের প্রত্যেকটি মেয়ের বাবা, দাদা ও নানা হয়ে আমি দাঁড়াব, ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলবে, এ লড়াইয়ে মানবতার বিজয় হবে।