
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন কমিশনের জন্য সার্চ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের দুজন বিচারপতির নাম চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কমিশনের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগের তিন মাস পর নতুন কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলো।
সূত্র জানায়, দুদকের বিদ্যমান আইন আনুযায়ী একজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠন করা হবে। দুদকের বিদ্যমান আইন অধিকতর সংশোধনের লক্ষ্যে জারি করা প্রজ্ঞাপন গত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন ও আইন হিসেবে পাস না করায় সেটির অকার্যকরতার কারণে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠনের সুযোগ নেই। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনের অন্যান্য ধারাও সংশোধনের সুযোগ নেই।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি গত ২৪ মে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো হয়। এদিকে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। ছুটির পর আজ সোমবার প্রথম কর্মদিবস পর্যন্ত বিচারপতিদের নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়নি। আজকালের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিচারপতি দুজনের নাম পাঠানো হতে পারে।
তিন সদস্যের নতুন কমিশন গঠনের সুপারিশ তৈরি করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শিগগির পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্যবিদায়ী সচিব ও সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে দুদকের বিদ্যমান আইন অধিকতর সংশোধনের জন্য ১১টি ধারা উল্লেখ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল গত বছর ২৩ ডিসেম্বর।
চলতি বছরের ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন, কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ পদত্যাগ করেছেন। এরপর থেকে দুদক চলছে কমিশন বিহীন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪-এর ধারা ৭ এর উপধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাঁচজন সদস্যের সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন করতে হবে। এই বাছাই কমিটি গঠনের অংশ হিসেবে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক এবং হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারককে মনোনয়ন প্রদান করবেন। আপিল বিভাগের মনোনীত বিচারক বাছাই কমিটির সভাপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের মনোনীত বিচারক বাছাই কমিটির সদস্য হবেন।
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সার্চ কমিটি একাধিক সভা করে দুদকের নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে দক্ষ, অভিজ্ঞ ছয়জন ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে। পরে রাষ্ট্রপতি ছয়জনের মধ্য থেকে তিনজনকে কমিশনার হিসেবে নিযোগ দেবেন। এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে চেযারম্যানের দায়িত্ব দেবেন।