
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় দুই ফসলি কৃষিজমি ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে এ ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর থেকে মান্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত আলী আহমদ শেখের প্রায় ৭৫ শতাংশ দুই ফসলি জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা শুরু করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জমির মাটি কেটে নিচু-উঁচু করে শ্রেণি পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাঁচগাঁও ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু, পাঁচগাঁও গ্রামের সোহেল মোল্লা, সেলিম মিয়াসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ভেকু ও ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, তারা বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, গত কয়েক মাস ধরে পাঁচগাঁও ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভেকু ও ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি কাটার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এভাবে কৃষিজমি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করা হলে একদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে, অন্যদিকে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হবে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পাঁচগাঁও ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, “সরকারি রাস্তা নির্মাণের কথা বলে আমার ভেকু মেশিন ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। দুই দিন কাজ করার পর জানতে পারি ফসলি জমি কাটা হচ্ছে। এরপর আমি আমার ভেকু মেশিন সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসি।”
এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, “খোঁজ নিয়ে জমি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। এর আগেও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পুনরায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”