
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ইল্লা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মা ফিলিং স্টেশনের পাশে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বরিশাল মেজবানি রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে খালে হোটেলের উচ্ছিষ্ট খাবার ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাটের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও পরিবেশদূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহন ও যাত্রী চলাচল বেড়েছে। মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট গড়ে ওঠায় যাত্রীদের খাবারের সুবিধা তৈরি হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল মেজবানি রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে হোটেলের বেঁচে যাওয়া খাবার ও ময়লা-আবর্জনা পাশের একটি খালে ফেলার অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, খালে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ভরাটের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীদের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি খাল বা জনসাধারণের ব্যবহার্য কোনো জলাশয় বর্জ্য ফেলে ভরাট করা গ্রহণযোগ্য নয়। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাদের দাবি।
তারা আরও বলেন, খালে বর্জ্য ফেলার পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিএনপি নেতা মো. ইমরান সরদার বারেকের একটি পরিত্যক্ত জমি রয়েছে বলে উল্লেখ করে স্থানীয়রা প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে বর্জ্য ফেলার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কিন্তু তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে অনুরোধ করার পরও বর্জ্য ফেলা বন্ধ হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের তির রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মা ফিলিং স্টেশনের মালিক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আরজ আলী মেম্বারের দিকেও। তবে খালটির প্রকৃত মালিকানা, সীমানা এবং সেখানে বর্জ্য ফেলে ভরাটের অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
এ বিষয়ে বরিশাল মেজবানি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা কোনো সরকারি খাল ভরাট করছেন না। যে জায়গাটি তারা ব্যবহার করছেন, সেটি মা ফিলিং স্টেশনের মালিক আরজ আলী মেম্বারের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সরকারি খালের জায়গা দখল বা ভরাটের সঙ্গে তারা জড়িত নন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য:
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, “জনসাধারণের চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং সরকারি খাল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা করা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন ময়লা-আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। সরেজমিনে তদন্ত করে খালটির প্রকৃত অবস্থা ও মালিকানা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয়দের দাবি:
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে খালটির সীমানা নির্ধারণ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তারা।
জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
আজকের প্রতিদিন