
বিশেষ প্রতিনিধি, আশুলিয়া (ঢাকা) : ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে আনসার আলী (৫০) নামে এক মুদি দোকান কর্মচারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত দুই দিন আগে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘরের ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে আশুলিয়া থানা-পুলিশ।
নিহত আনসার আলী টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার বাইসখাইল গ্রামের মৃত সুজাত আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার ‘সোহাগ’ নামের একটি স্থানীয় মুদি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ইউনিক এলাকার জিন্নাত আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাড়িওয়ালার সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে আনসার আলীর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যাচ্ছিল না। এর মধ্যে তাঁর ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও অন্য ভাড়াটিয়ারা সেখানে এগিয়ে আসেন। পরে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করলে আনসার আলীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। মরদেহে পচন ধরায় আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় ভাড়াটিয়াদের দাবি, ঘরের দরজা খোলা থাকলেও গত দুই দিন ধরে কেউ তাঁর খোঁজ নেননি। ফলে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি আগে জানা সম্ভব হয়নি। তবে ঠিক কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আনসার আলীর মৃত্যু স্বাভাবিক কারণে হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদ বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে আনসার আলীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।