
জাহিদুল ইসলাম, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করে উপকূলীয় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ অবয়াশ্রম গড়ে তুলতে এক বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬।
খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র্যাবের ধারাবাহিক বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৪টি দুর্ধর্ষ বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ মোট ৫২ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন।
উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধান ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক পেশাজীবীদের স্বাভাবিক জীবিকা নিশ্চিত করতেই র্যাব এই আত্মসমর্পণের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ও সদস্য সংখ্যা র্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ৫২ জন সদস্য মূলত সুন্দরবনের চারটি সক্রিয় দস্যু দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এদের দলভিত্তিক বিভাজন হলো: বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী: ১৬ জন (বাহিনী প্রধানসহ),দুলাভাই/আফজাল বাহিনী: ১৫ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আনারুল বাহিনী: ১৩ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আফতাব বাহিনী: ৮ জন (বাহিনী প্রধানসহ),দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহীনে সক্রিয় থাকা এসব বাহিনীর কারণে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির শিকার হতেন স্থানীয় জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। পাশাপাশি সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিল।
র্যাবের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে এক নতুন স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এবার অন্তত কিছুটা হলেও ভয়ডরহীনভাবে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হবে।
র্যাব-৬-এর মিডিয়া উইং নিশ্চিত করেছে যে, দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সুন্দরবনকে পুরোপুরি নিরাপদ না করা পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বনদস্যুদের চিরতরে নির্মূল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় র্যাবের নিয়মিত চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।