
মোঃ শফিকুল ইসলাম,গৌরনদী (বরিশাল):
বরিশালের গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে যে ক’জনের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজসেবক জহুরুল ইসলাম জহির। অন্যের কল্যানে জীবন ব্যায়ের শপথ বাস্তবায়নে গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির প্রার্থী হতে চান বলে তার এক ঘনিষ্টজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যদিও এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি, তবে সম্ভাব্য তফসিল ঘোষণার আগেই গৌরনদীর রাজনীতির অঙ্গনসহ সব মহলে বিষয়টি আলোচিত। গৌরনদী পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে মেয়র প্রার্থী হিসেবে জহুরুল ইসলাম জহিরের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন অনেক সচেতন নাগরিক। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তাকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
জহুরুল ইসলাম জহির গৌরনদীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি বিনয়ী, সদালাপী ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ এলাকার মানুষ ও মাটির টানে গৌরনদীতেই থেকে যান। গত ৪৫টি বছর এলাকার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের চিন্তা থেকেই তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন এবং নিবেদিতভাবে মানুষের জন্য কাজ করে চলছেন।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে আসছেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কলম ধরতে গিয়ে একাধিকবার নির্যাতন, মামলা ও হামলার শিকার ও জীবন মৃত্যুর মখোমুখি হলেও তিনি কখনো পিছু হটেননি। অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা তার স্বভাবের সঙ্গে যায় না এমনটাই মনে করেন তার সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠজনেরা। বর্তমানে তিনি গৌরনদীর ঐতিহ্যবাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাংবাদিক সমাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও তিনি সক্রিয়। তিনি বর্তমানে পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থেকে নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন ইস্যুতে কাজ করছেন। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠিত ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি, যা তার নেতৃত্বগুণকে আরও পরিপক্ব করেছে। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেও রয়েছে তার দৃঢ় অবস্থান।
তিনি বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং নাগরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর গৌরনদী উপজেলা সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া গৌরনদী উপজেলার বিআরডিবির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনিক দক্ষতারও প্রমাণ দিয়েছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার সক্রিয় পদচারণা।
তিনি একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। বর্তমানে চন্দ্রদীপ সাহিত্য সমাজের সভাপতি এবং ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাগত সততা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি মহাত্মা গান্ধী স্বর্ণপদক লাভ করেছেন, যা তার গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদার প্রতিফলন বলে মনে করেন অনেকে।
রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রেও তিনি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তিনি। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক জীবনে শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো পিছিয়ে যাননি; এমনকি স্বৈরশাসনের সময়ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে নিজের অবস্থানে অটল থেকেছেন।
এলাকাবাসীর ধারণা, দেশনায়ক তারেক রহমানের চিন্তা-চেতনা ও মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে তিনি গৌরনদী পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও দৃষ্টিনন্দন নগরীতে রূপ দিতে পারবেন। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি নিরাপদ পৌরসভা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
পার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, প্রার্থী হওয়া না হওয়া সময় বলে দিবে। তবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজের ভাবনার কথা উল্লেখ করে জহুরুল ইসলাম জহির বলেন, “গৌরনদীর প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমার অঙ্গীকার। অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে একটি আধুনিক ও মডেল পৌরসভা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা তাকে একজন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাদের বিশ্বাস, সুযোগ পেলে তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে এখনো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পরই গৌরনদীর রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে। তবে এরই মধ্যে জহুরুল ইসলাম জহিরকে ঘিরে যে জনআলোচনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা আসন্ন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জহুরুল ইসলাম জহির জাতীয়তাবাদী দলের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। ৯০ শ্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যর আহবায়ক ছিলেন। তার রয়েছে বর্ণাট্য রাজনৈতিক জীবন। গৌরনদী হাইস্কুলের ছাত্রদলের সভাপতি, সরকারি গৌরনদী কলেজ ও গৌরনদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি, বরিশাল উত্তর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ছিলেন। গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের সময়ে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন।