
আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি :
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দাবি পূরণ না হওয়ায় সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়ার বাইপাইল বগাবাড়ী এলাকার সমির সুপার মার্কেটে অবস্থিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিটি ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন-এর কার্যালয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, মামুন মন্ডল (৪৫) ও আব্দুস সালাম (৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তছনছ করে। এ সময় সংগঠনের কর্মী দুলালী আক্তারের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়।
পরে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি নাজমুল হকের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাকে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে চাঁদার টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
দুলালী আক্তার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় অফিসে হামলা চালানো হয়েছে।”
নাজমুল হক বলেন, “অফিসে হামলার খবর পেয়ে গেলে আমাকে মারধর করা হয় এবং আমার কাছে থাকা ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।”
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, “মামুন নামের ওই ব্যক্তি কিছুদিন ধরে আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি।”
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ বলেন, “লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।