
মোঃ শফিকুল ইসলাম, গৌরনদী (বরিশাল):
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস মিয়া।
সোমবার (২৫ মে) দুপুর ২টায় রাজধানীর হেয়ার রোডস্থ মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, স্থানীয় উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম। স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উভয় নেতা।
আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও জনগণের কল্যাণ ও জাতীয় স্বার্থে ইতিবাচক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
এ সময় তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়, মাদক ও সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মো. ইলিয়াস মিয়া বলেন, “এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলার উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণে গঠনমূলক আলোচনা করেছি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনস্বার্থে সংলাপের সংস্কৃতি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, গৌরনদী-আগৈলঝাড়া উপজেলার উন্নয়নে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে মো. ইলিয়াস মিয়ার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে গণঅধিকার পরিষদের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তবে পরবর্তীতে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা ও এলাকার স্বার্থ বিবেচনায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান ইলিয়াস মিয়া। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেই রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ধারাবাহিকতাই বর্তমান এই সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।