
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শাওড়া গ্রামের এক নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা মো. নুরুল আমিন সরদার গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে শাহারিয়ান নাফিজ (১৮), নাছিমা বেগম (৩৫), সাইফুল মনির (৪৫), নুরুল ইসলাম হালান সরদার (৪০), বেল্লাল সরদার (৩০), সাথী বেগম (২৫) ও তানিয়া বেগম (৩২)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌরনদী পৌর এলাকার ৬ নং ওয়ার্ড শাওড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল আমিন সরদারের মেয়ে জিনিয়া ইসলাম অর্পি চলতি বছর গৌরনদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত শাহারিয়ান নাফিজ দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলছাত্রীকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে উত্ত্যক্ত করা হতো এবং তাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি একাধিকবার শাহারিয়ান নাফিজের পরিবারকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং পরিবারের সদস্যরা তাকে উৎসাহিত করায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে শাহারিয়ান নাফিজ অন্য অভিযুক্তদের সহযোগিতায় নাবালিকা স্কুলছাত্রীকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
অভিযোগকারী নুরুল আমিন সরদার উল্লেখ করেন, এর আগেও পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। সে সময় গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশের সহযোগিতায় তাকে শাহারিয়ান নাফিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি (নুরুল আমিন) আরো বলেন মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শাহারিয়ান নাফিজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর সন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।