
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার পাশের ১৩টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে আশুলিয়ার রাঙ্গামাটি-গাজীবাড়ি সড়ক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার ও বুধবার শিমুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিমের নির্দেশে রাস্তার পাশের গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাঙ্গচিল নামের একটি রেস্টুরেন্টের পাশের সড়কের ধারে থাকা অন্তত ১৩টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছের গুঁড়িগুলো সড়কের নিকটবর্তী একটি করাতকলে (স-মিল) নিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া একই স্থানে আরও কয়েকটি পুরোনো গাছ কাটার চিহ্নও দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেন, গাছগুলো সরকারি রাস্তার পাশে অবস্থিত এবং জনস্বার্থে রোপণ করা হয়েছিল। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি গাছ কাটার অনুমতি ইউপি সদস্য কীভাবে পেলেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে গাছগুলো অপসারণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সরকারি রাস্তার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি সম্পদ এভাবে ব্যক্তিগতভাবে কেটে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুলিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, “গাছগুলো আমরা নিজেরাই রোপণ করেছিলাম। তাই আমরা নিজেরাই কেটেছি।”
তবে এ বিষয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. কাবুল খান বলেন, “সরকারি গাছ কাটার এখতিয়ার কারও নেই। গাছ কাটার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদন্তের পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।