
সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই (ঢাকা) :
ঢাকার ধামরাই পৌরসভার আমিন মডেল টাউনের একটি সড়ক বর্তমানে জনসাধারণের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। রাস্তার মাঝখানে ম্যানহোলের গর্ত রেখে প্রাথমিক ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন আমিন মডেল টাউনের হাজারো মানুষ। এরই মধ্যে সত্য চন্দ্র তরফদার ও শাহ আলম নামে দুজন ব্যক্তি গর্তে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শাহ আলম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ধামরাই পৌরসভার আমিন মডেল টাউন থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যাওয়ার এটি একমাত্র সংযোগ সড়ক। এই সড়ক ব্যবহার করে কয়েকশ পরিবারসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা যাতায়াত করেন।পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩১২ মিটার আরসিসি ঢালাই সড়কের কাজ পায় মীম কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে তারা রাস্তার মাঝখানে ম্যানহোলের গর্ত রেখে আংশিক কাজ সম্পন্ন করে কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, রিকশা ও যাত্রীবাহী যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া অংশও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন কলকারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ চলাচল করেন। কয়েকদিন আগে সত্য চন্দ্র তরফদার মোটরসাইকেল নিয়ে গর্তে পড়ে আহত হন। পরে শাহ আলমও একই স্থানে দুর্ঘটনায় পড়ে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. নন্দলাল বলেন, “আমিন মডেল টাউনের এই সড়ক দিয়ে দি-একমি ল্যাবরেটরি, স্নোটেক্স গার্মেন্টস, ফুটওয়্যার কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা চলাচল করেন। কিন্তু রাস্তার কাজ অসমাপ্ত রেখে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা বারবার ঠিকাদার ও পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আমিন মডেল টাউন সোসাইটির মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে আমরা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এ বিষয়ে মীম কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার মো. মিরাজ বলেন, “৩১২ মিটার রাস্তার জন্য ৮৮ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পৌরসভা থেকে সহযোগিতা পেলে আমি কাজটি সম্পন্ন করতে পারব।
তবে রাস্তার কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ধামরাই পৌরসভার প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীনের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।