
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন ‘ছাত্রশক্তি’র এক নেতার করা একাধিক মামলা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন, আইনজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ একটি মামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা ও মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি বরিশালের আদালতে করা একটি নালিশি মামলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ মোট ২৪৮ জনকে আসামি করা হয়। মামলার বাদী ছাত্রশক্তির বরিশাল মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারযুক আব্দুল্লাহ। মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতার অভিযোগ, মামলায় এমন কয়েকজন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের মধ্যে অন্তত চারজন মৃত। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিএনপিপন্থী কয়েকজন আইনজীবী প্রশাসনের কাছে মামলার বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, যদি অভিযোগে অসত্য তথ্য বা নিরীহ ব্যক্তিদের জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, মারযুক আব্দুল্লাহ এর আগেও একাধিক মামলার বাদী ছিলেন। তাঁকে ঘিরে মামলা করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ছাড়া পটুয়াখালীর দুমকি থানায় দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলায় মারযুক আব্দুল্লাহ আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মারযুক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আদালতে করা যেকোনো অভিযোগ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই যাচাই হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যায় না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই মামলায় বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাই এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি।