
গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেতা আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে একজন ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব সংগঠক হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেছেন তাঁর সমর্থকেরা।
আসন্ন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁকে নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি মেয়র প্রার্থী হলে দল ও পৌরবাসী উপকৃত হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান। ১৯৮৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। সমর্থকদের ভাষ্য, ওই সময় তাঁর বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে ২৭টি মামলা দায়ের করা হলেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯১ সালে গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা উত্তর যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ সালে গৌরনদী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০১ সালে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে পরপর দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তাঁকে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই দায়িত্বে রয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে ১৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তাঁর বাসভবনে একাধিকবার হামলা হয়েছে এবং তাঁকেও বিভিন্ন সময় হামলার শিকার হতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজ গেট এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন একটি দোকানঘর লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে তাঁরা দাবি করেন।
শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান অতীতে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবং ২০২১ সালের গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর সমর্থকদের অভিযোগ, উভয় নির্বাচনেই অনিয়মের কারণে প্রকৃত ফলাফল প্রতিফলিত হয়নি।
বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, “দলের দুঃসময়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান কখনো নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি। তৃণমূলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি একজন দক্ষ সংগঠক।”
মাহিলাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সজল সরকার বলেন, “সংগঠনের কঠিন সময়ে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।”
গৌরনদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাস্টার মনির হোসেন আকন বলেন, “তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এবং দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে তিনি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।”
রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন গৌরনদী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল থাকবেন।
স্থানীয় অনেক বাসিন্দার মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি নির্বাচিত হলে পৌরসভার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ, আইন-শৃঙ্খলা এবং পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামলা, মামলা, নির্বাচনী অনিয়ম ও রাজনৈতিক নির্যাতনের অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাঁর সমর্থক ও দলীয় সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাধীন বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।